শেষ ওভার পর্যন্ত লড়েও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার বাংলাদেশের

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
শেষ ওভার পর্যন্ত লড়েও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার বাংলাদেশের
ছবি: সংগৃহীত

পুঁজি ছিল মাত্র ১১৭ রান। এই রান নিয়েও ম্যাচ শেষ ওভার পর্যন্ত নিয়ে গেল বাংলাদেশ। প্রথম বলেই লরা উলভার্টকে ফিরিয়ে আশা জাগিয়েছিলেন মারুফা আক্তার। মাঝের ওভারগুলোতে চাপও ধরে রেখেছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়ের খুব কাছে গিয়েও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হার এড়াতে পারল না বাংলাদেশ।

Advertisement

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১১৭ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ১৯.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ছিল ৫ রান। বল হাতে ছিলেন মারুফা। কম পুঁজি নিয়েও ম্যাচ শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে আনার পর বাংলাদেশের আশা তখনও শেষ হয়ে যায়নি। কিন্তু ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হজম করেন মারুফা। পরের বলেই এক রান নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় নিশ্চিত করেন চার্লি ট্রায়ন।

বাংলাদেশকে শুরুতেই ম্যাচে ফেরান মারুফা। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের প্রথম বলেই উলভার্টকে বোল্ড করেন তিনি। এমন শুরু ১১৭ রানের ম্যাচে বাংলাদেশকে কিছুটা আত্মবিশ্বাস দেয়। এরপর তাজমিন ব্রিটস ও আনেরিন ড্রেকসন ইনিংস সামলালেও দ্রুত রান তুলতে পারেননি।

ব্রিটস ২৪ বলে ২০ রান করেন। ড্রেকসন করেন ৪৫ বলে ৪৫। তাঁর ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকাকে রান তাড়ায় ধরে রাখে, যদিও বাংলাদেশি বোলাররা নিয়মিত চাপ তৈরি করছিলেন। শেষ দিকে নাদিন ডি ক্লার্ক ও ট্রায়ন শান্ত মাথায় ম্যাচ শেষ করেন। ডি ক্লার্ক ১৪ বলে ১৫ এবং ট্রায়ন ৫ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল নাহিদা আক্তার। ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। একটি করে উইকেট পান মারুফা, রিতু মণি ও সানজিদা আক্তার মেঘলা। কম রানের ম্যাচে বাংলাদেশি বোলাররা লড়াই করেছেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতা পার্থক্য গড়ে দেয়।

এর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরুতেই ধাক্কা খায়। মারিজান কাপের করা ইনিংসের প্রথম বলেই বোল্ড হন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। দুর্দান্ত ইয়র্কারে লাইন মিস করেন এই ওপেনার। আরেক ওপেনার তাজনেহারও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, করেন মাত্র ১ রান।

দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ের পর ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন সুবহানা মোস্তারি ও শারমিন আক্তার। দুজনের জুটি বাংলাদেশকে ধস থেকে বাঁচালেও রান তোলার গতি বাড়াতে পারেননি। শারমিন ২৯ বলে ২২ রান করেন। সুবহানা ৪৮ বলে ৪২ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন।

মাঝের ওভারে বাংলাদেশের রানরেট আটকে যায়। উইকেট হাতে থাকলেও বড় শটের অভাব ছিল স্পষ্ট। শেষ দিকে অধিনায়ক জ্যোতির ব্যাটেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ২০ বলে অপরাজিত ৩২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর দ্রুত রান না এলে বাংলাদেশের স্কোর আরও কম থাকতে পারত।

তবে শেষ পর্যন্ত ১১৭ রান যথেষ্ট হয়নি। বোলাররা লড়াই জমালেও ব্যাটিংয়ের ধীরগতি বাংলাদেশকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে শেষ ওভার পর্যন্ত ঠেলে দেওয়া প্রশংসনীয়, কিন্তু জয়ের জন্য আরও ১০-১৫ রান কম পড়ে যায় জ্যোতিদের।

লাদেশ।