সাদমানের ব্যর্থতার পর ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ

তাইজুল ইসলামের ৭ উইকেটেও বড় বিপদ এড়াতে পারল না বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়েকে ৪১০ রানে অলআউট করলেও প্রথম ইনিংসে ২৭০ রানের বড় লিড দিয়ে বসেছে স্বাগতিকরা। সেই চাপ নিয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দিনের শেষভাগে সাদমান ইসলামকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৪০ রান। ইনিংস হার এড়াতে এখনও দরকার ২৩০ রান। জয় অপরাজিত আছেন ২১ রানে, তার সঙ্গে ৯ রানে দিন শেষ করেছেন মুমিনুল হক।
বড় লিডের সামনে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল সতর্ক। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি সাদমান। ১১ বলে ৯ রান করে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার। প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তার দ্রুত বিদায় বাংলাদেশকে আরও চাপে ফেলে দিয়েছে।
এর আগে, দিনের শুরুটা ছিল জিম্বাবুয়ের দাপটে। প্রথম সেশনে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন স্বাগতিক ব্যাটাররা। খালেদ আহমেদ শুরুতে একটি উইকেট এনে দিলেও এরপর জিম্বাবুয়ে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। মধ্যাহ্নভোজের আগে ২ উইকেটে ২৪৯ রান তুলে ফেলে তারা।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন ইনোসেন্ট কাইয়া। ওপেনার তুলে নেন নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন তাইজুল ইসলাম। ব্রায়ান বেনেটকে ফেরানোর পর দ্রুতই কাইয়াকেও থামান তিনি। ২২৭ বলে ১৪০ রান করে আউট হন জিম্বাবুয়ে ওপেনার।
কাইয়ার বিদায়ের পর রানআউটে তাফাদজওয়া টিসিগাকে হারায় জিম্বাবুয়ে। তবে ওয়েসলি মাধেভেরে ও ক্রেইগ আরভিনের ব্যাটে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। চা বিরতির সময় জিম্বাবুয়ের রান ছিল ৩৫০।
শেষ সেশনে তাইজুলের স্পিনে কিছুটা লাগাম টানে বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ে জিম্বাবুয়ের। তবে মাধেভেরে ও আরভিনের ফিফটি তাদের ৪০০ পার করে দেয়। আরভিন আউট হন ৬০ রানে। মাধেভেরে ৭৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
শেষ পর্যন্ত ৪১০ রানে থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে একাই ৭ উইকেট নেন তাইজুল। খালেদ আহমেদ নেন ২ উইকেট। বাকি বোলাররা উইকেটশূন্য থাকায় জিম্বাবুয়ের লিড কমিয়ে আনার সুযোগ নষ্ট হয়।
দিনের শেষ ভাগে বাংলাদেশের সামনে কাজ ছিল কোনো উইকেট না হারিয়ে সময় পার করা। কিন্তু সাদমানের বিদায়ে সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি সফল হয়নি। এখন তৃতীয় দিনে বাংলাদেশকে শুধু ম্যাচ বাঁচানো নয়, আগে ইনিংস হার এড়ানোর লড়াই করতে হবে।





