সেমিফাইনালে এবার এমবাপ্পে-ইয়ামালের মহারণ

দুই বছর আগে ইউরোর সেমিফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের
ফ্রান্সকে বিদায় করে দিয়েছিলেন লামিন ইয়ামাল। এক বছর পর নেশন্স লিগের শেষ চারেও জয়টা হয়েছিল ইয়ামালদের। এবার দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির লড়াই বিশ্বকাপের মঞ্চে। ফাইনালের টিকিট পেতে ডালাসে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন।
বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টায় ডালাস স্টেডিয়ামে শুরু হবে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল। জয়ী দল ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের ফাইনালে খেলবে। তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড-নরওয়ে এবং আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড অংশের বিজয়ী দল।
কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। অন্যদিকে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবার শেষ চারে উঠেছে স্পেন। দেশটির বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই মাত্র দ্বিতীয় সেমিফাইনাল।
দুই দলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এগিয়ে স্পেন। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্স প্রথমে এগিয়ে গেলেও ইয়ামাল ও দানি ওলমোর গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। সেই ম্যাচে ১৬ বছর বয়সী ইয়ামালের দূরপাল্লার গোলটি হয়েছিল প্রতিযোগিতার সেরা গোল।
এক বছর পর ২০২৫ নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। গোলের উৎসব হওয়া ম্যাচটি স্পেন জিতেছিল ৫-৪ ব্যবধানে। দুটি গোল করেছিলেন ইয়ামাল। ফ্রান্সের হয়ে পেনাল্টি থেকে গোল পেয়েছিলেন এমবাপ্পে।
তবে বড় ম্যাচে স্পেনকে হারানোর স্মৃতিও আছে ফ্রান্সের। ২০২১ নেশন্স লিগের ফাইনালে এমবাপ্পের জয়সূচক গোলে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল দিদিয়ের দেশমের দল।
বিশ্বকাপে এর আগে একবারই দেখা হয়েছে দুই দেশের। ২০০৬ সালের শেষ ষোলোয় ডেভিড ভিয়ার পেনাল্টিতে পিছিয়ে পড়েও ৩-১ ব্যবধানে জিতেছিল জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স। প্যাট্রিক ভিয়েরা ও ফ্রাঙ্ক রিবেরির পাশাপাশি গোল করেছিলেন জিদানও।
বিশ বছর পর বিশ্বকাপে তাদের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে এমবাপ্পে ও ইয়ামাল। একজন ফ্রান্সের বর্তমান অধিনায়ক এবং বিশ্বকাপের পরীক্ষিত গোলদাতা। অন্যজন বিশ্ব ফুটবলের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে বড় মুখ।
মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেও দুর্দান্ত এক গোলে ফ্রান্সকে এগিয়ে দিয়েছিলেন এমবাপ্পে। এরপর ওসমান দেম্বেলের গোল তৈরিতেও বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে আট গোল করে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন ফরাসি অধিনায়ক।
বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল ২০টি। সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির ২১ গোল থেকে মাত্র একটি পিছিয়ে তিনি। সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপের ২০ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়েছেন ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
মরক্কোর বিপক্ষে গোড়ালিতে আঘাত পাওয়ায় ৭৭ মিনিটে মাঠ ছেড়েছিলেন এমবাপে। তবে ফরাসি শিবির জানিয়েছে, চোট গুরুতর নয়। এমবাপ্পেও জানিয়েছেন তিনি ভালো আছেন। ফলে স্পেনের বিপক্ষে তার খেলা নিয়ে আপাতত সংশয় নেই।
অন্যদিকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল না পেলেও ম্যাচসেরা হয়েছেন ইয়ামাল। তার গতি ও ভেতরে ঢুকে খেলা সামলাতে বেশির ভাগ সময় দুজন রক্ষণাত্মক খেলোয়াড় ব্যবহার করতে হয়েছে বেলজিয়ামকে। ম্যাচটিতে বিশ্বকাপে ১৮ বছর বা তার কম বয়সে সর্বোচ্চ ছয় ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়েছেন বার্সেলোনার এই উইঙ্গার।
সেমিফাইনালের আগের দিন ১৯ বছর পূর্ণ করবেন ইয়ামাল। জন্মদিনের পর তার প্রথম ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল।
দুই দলের বিশ্বকাপযাত্রাতেও দেখা গেছে ভিন্ন ধরনের শক্তি। এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচের সবকটিই জিতেছে ফ্রান্স। নকআউট পর্বে কানাডা, প্যারাগুয়ে ও মরক্কো কারও কাছেই গোল খায়নি তারা। প্রয়োজনের মুহূর্তে গতি বাড়িয়ে ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার ক্ষমতাই দেশমের দলের বড় শক্তি।
স্পেন শুরু করেছিল কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে। এরপর টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে এসেছে তারা। ছয় ম্যাচে ১১ গোল করার বিপরীতে বেলজিয়ামের কাছে মাত্র একটি গোল খেয়েছে দে লা ফুয়েন্তের দল। ২০২৩ সালের মার্চ থেকে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তাদের অপরাজিত থাকার ধারাটি এখন ৩৭ ম্যাচে পৌঁছেছে।
বল দখল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং বল হারানোর পর দ্রুত চাপ তৈরির ওপর নির্ভর করবে স্পেন। অন্যদিকে রক্ষণ সামলে এমবাপ্পে ও দেম্বেলের গতি কাজে লাগিয়ে পাল্টা আক্রমণে উঠতে চাইবে ফ্রান্স। রদ্রি-পেদ্রিদের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে এমবাপ্পেদের সরাসরি আক্রমণের এই পার্থক্যই ম্যাচটির মূল কৌশলগত লড়াই হয়ে উঠতে পারে।
ইউরো ও নেশন্স লিগে টানা দুইবার ফ্রান্সকে হারিয়েছে স্পেন। এবার হিসাব মেলানোর মঞ্চ আরও বড়। একদিকে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার অপেক্ষায় ফ্রান্স। অন্যদিকে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে স্পেন। মাঝখানে ফাইনালের একটি টিকিট এবং আলোচনার কেন্দ্রে এমবাপ্পে-ইয়ামালের আরেকটি মহারণ।




