কোয়ার্টারের লড়াইয়ের আগে ইংল্যান্ডকে হালান্ডের খোঁচা

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
কোয়ার্টারের লড়াইয়ের আগে ইংল্যান্ডকে হালান্ডের খোঁচা
আর্লিং হালান্ড। ছবি: সংগৃহীত

মাঠের লড়াই শুরু হতে এখনো কিছুটা সময় বাকি। তবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইটা শুরু করে দিলেন আর্লিং হালান্ড। নরওয়েকে পিছিয়ে রেখে ইংল্যান্ডকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার উল্লেখ করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই ফরোয়ার্ড। সেই সঙ্গে সব চাপ ইংলিশদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অনুরোধও করেছেন সংবাদমাধ্যমের কাছে।

শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ আটে মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। ম্যাচের আগে ফোর্ট লডারডেলে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন হালান্ড।

সব চাপ ইংল্যান্ডের ওপর কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি সম্মতি জানান নরওয়ের তারকা। সেই চাপ নরওয়ে কাজে লাগাতে পারবে কি না জানতে চাইলেও তার উত্তর ছিল, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’

এরপর হাসতে হাসতে হালান্ড বলেন, ‘কয়েকটি দল পরিষ্কারভাবে শিরোপার দাবিদার। ইংল্যান্ড তাদের একটি। তাই আপনাদের উচিত ইংলিশ খেলোয়াড়দের ওপর সম্ভাব্য সব চাপ তৈরি করা।’

বিশ্বকাপ শুরুর আগে নরওয়ের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ বলেছিলেন হালান্ড। প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পরও নিজের মূল্যায়ন খুব একটা বদলাননি তিনি। এখন নরওয়ের সম্ভাবনা কতটা, এমন প্রশ্নে তার উত্তর, ‘এখনো খুব কম।’

ইংল্যান্ডের সমর্থকদের বিনয়ী থাকা উচিত কি না, সেই প্রশ্নেও পুরোনো একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মজা করেন হালান্ড। ২০২৪ সালে ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের ম্যাচের পর মিকেল আরতেতাকে ‘বিনয়ী থাকতে’ বলেছিলেন তিনি। এবার হালান্ড বলেছেন, ‘সবারই বিনয়ী থাকা উচিত। তবে পরের পর্বে যাওয়ার ব্যাপারে ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত।’

এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন হালান্ড। চার ম্যাচে সাত গোল করেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। শেষ ষোলোয় তার জোড়া গোলেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে নরওয়ে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই প্রথমবার শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে দেশটি।

নিজেদের এই যাত্রায় হালান্ড নিজেও বিস্মিত, ‘সত্যি বলতে, আমি এটা আশা করিনি। নরওয়েকে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলব, বিষয়টি আমার কাছেও বেশ অবাক করার মতো।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচটি হালান্ডের জন্য ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ। বাবার খেলোয়াড়ি জীবনের সময় ইংল্যান্ডের লিডসে জন্ম হয়েছিল তার। বর্তমানে খেলছেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। ইংল্যান্ড দলে তার বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে পাঁচজন ক্লাব সতীর্থ রয়েছেন।

হালান্ড বলেন, ‘ম্যাচটি আমার জন্য বিশেষ। আমি ইংল্যান্ডে খেলি, আমার জন্মও ইংল্যান্ডে। আবার সতীর্থদের বিপক্ষেও খেলতে হবে। তাই ম্যাচটি কিছুটা মজার এবং দারুণ হতে যাচ্ছে।’

নরওয়ে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেললেও ইংল্যান্ড টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে শেষ আটে উঠেছে। শেষ ষোলোয় দশজন নিয়েও মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে টমাস টুখেলের দল। তবে লাল কার্ড দেখা জ্যারেল কোয়ানসা দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় নরওয়ের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না।

গোলের লড়াইয়েও আকর্ষণ ছড়াবে ম্যাচটি। হালান্ডের সাত গোলের বিপরীতে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন করেছেন ছয় গোল। তবে ১৯৬৬ সালের পর আর কোনো বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা না জেতা ইংল্যান্ডের জন্য হিসাবটা শুধু দুই তারকা ফরোয়ার্ডের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রত্যাশার ভারও বহন করতে হবে তাদের। ম্যাচের আগে সেই ভারটাই আরেকটু বাড়িয়ে দিলেন হালান্ড।