অশ্রুসিক্ত রোনালদো, কাঁদল ফুটবল বিশ্বও

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
অশ্রুসিক্ত রোনালদো, কাঁদল ফুটবল বিশ্বও
শেষ বাঁশি বাজতেই নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি রোনালদো। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর কখনো দেখা যাবে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলপ্রেমীদের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া পর্তুগিজ মহাতারকার বিশ্বকাপ-অধ্যায়ের শেষ দৃশ্যটি হয়ে থাকল অশ্রু, হতাশা আর নিস্তব্ধতায় মোড়া।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। আর সেই পরাজয়ের মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপে শেষ হয়ে গেল সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের পথচলা।

ম্যাচটি যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনও আশা বাঁচিয়ে রেখেছিল পর্তুগাল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মিকেল মেরিনোর গোলে সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বল জালে জড়াতেই ডালাসের স্টেডিয়ামে নেমে আসে স্তব্ধতা। এক মুহূর্তেই বদলে যায় পর্তুগালের ভাগ্য।

শেষ বাঁশি বাজতেই নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি রোনালদো। চোখের জল লুকানোর কোনো চেষ্টাই করেননি তিনি। মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মহাতারকা। সতীর্থরা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন, সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই অশ্রু যেন থামার ছিল না। ক্যারিয়ারের অসংখ্য জয়, শিরোপা আর রেকর্ডের মালিক রোনালদো সেদিন বিদায় নিলেন এক বুক অপূর্ণতা নিয়েই।

গ্যালারিতেও তখন আবেগঘন দৃশ্য। হাজারো দর্শক দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে সম্মান জানান সেই মানুষটিকে, যিনি প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিলেন। অনেক সমর্থকের চোখেও ছিল জল। কারণ তারা জানতেন, এটি শুধু একটি ম্যাচের সমাপ্তি নয়; শেষ হয়ে গেল একটি যুগ।

২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর টানা ছয়টি আসরে পর্তুগালের জার্সি গায়ে লড়েছেন রোনালদো। অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন, দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, দেশের ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তবে বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্নটি শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল।

অন্যদিকে, এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্পেন। কিন্তু ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল না শুধু জয় বা পরাজয়; ছিল অশ্রুসিক্ত এক বিদায়। এমন এক বিদায়, যা হয়তো বহুদিন ধরে ফুটবলপ্রেমীদের মনে বেদনার রেখা এঁকে রাখবে।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বিশ্বকাপকে বিদায় জানালেন। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসে তার নাম, তার লড়াই, তার আবেগ আর তার উত্তরাধিকার অমলিন হয়ে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।