টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করে প্যারাগুয়ের ইতিহাস

বিশ্বকাপের নকআউটে পেনাল্টি মানেই জার্মানির মানসিক শক্তি, এমন ধারণা বহুদিনের। সেই ইতিহাসই এবার ভেঙে দিল প্যারাগুয়ে। বোস্টন স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর নাটকীয় ম্যাচে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে জার্মানিকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে জার্মানির প্রথম পেনাল্টি শুটআউট হার। পেনাল্টির রাজা হিসেবে পরিচিত জার্মানির বিপক্ষে এমন জয় প্যারাগুয়ের জন্য ঐতিহাসিক। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ের ১২০ মিনিটেও দুই দলকে আলাদা করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আসে টাইব্রেকারে।
প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল জার্মানির কাছেই। বল দখলে বড় ব্যবধান, একের পর এক আক্রমণ, কর্নার, ক্রস, সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল। কিন্তু প্যারাগুয়ে ছিল সংগঠিত, ধৈর্যশীল এবং সুযোগের অপেক্ষায়।
৪২ মিনিটে সেই সুযোগই কাজে লাগায় প্যারাগুয়ে। মিগেল আলমিরনের কর্নার থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে মাতিয়াস গালারসার ক্রসে হেড করে গোল করেন হুলিও এনসিসো। বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও বিরতিতে ১-০ লিড নিয়ে যায় প্যারাগুয়ে।
বিরতির পর জার্মানি আরও সরাসরি আক্রমণে যায়। ৫৪ মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের দারুণ ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে সমতা ফেরান কাই হাভার্টজ। এতে ম্যাচে ফিরে আসে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে প্যারাগুয়ে তখনও ভেঙে পড়েনি।
শেষ সময় পর্যন্ত জার্মানি চাপ তৈরি করে। অতিরিক্ত সময়েও একই ছবি। ১০৫ মিনিটে জোনাথন টাহ বল জালে পাঠালেও ভিএআর দেখে গোল বাতিল করা হয়। প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে বাধা দেওয়ার কারণে গোলটি বাতিল হয়। সেটিই ছিল অতিরিক্ত সময়ের সবচেয়ে বড় ঘটনা।
এরপর ম্যাচ যায় টাইব্রেকারে। সেখানে শুরুতেই ধাক্কা খায় জার্মানি। হাভার্টজের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন গিল। পরে নিক ভল্টেমাদের শটও রুখে দেন প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক। জার্মানিকে বাঁচিয়ে রাখতে নাদিয়েম আমিরি গোল করেছিলেন, ম্যানুয়েল নয়ারও ফাবিয়ান বালবুয়েনার পেনাল্টি ঠেকিয়ে আশা ফিরিয়েছিলেন। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি জার্মানি।
সাডেন ডেথে জোনাথন টাহের শট চলে যায় অনেক ওপর দিয়ে। এরপর হোসে কানালে এগিয়ে আসেন প্যারাগুয়ের হয়ে। তার শট জালে জড়াতেই শেষ হয়ে যায় জার্মানির বিশ্বকাপ। পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানির দীর্ঘ অজেয়তার গল্প থেমে যায় বোস্টনে।
প্যারাগুয়েও নিখুঁত ছিল না। আন্তোনিও সানাব্রিয়া শট বাইরে মারেন, বালবুয়েনার পেনাল্টি ঠেকান নয়ার। তবু শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর লড়াইয়ে এগিয়ে থাকে প্যারাগুয়ে। গোলরক্ষক গিলের সেভ, রক্ষণভাগের ধৈর্য এবং শেষ শটে কানালের সাহস মিলে ইতিহাস গড়ে লা আলবিররোহা।
জার্মানির জন্য এই হার আরও বেদনাদায়ক, কারণ ২০১৪ সালের ফাইনালের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নকআউটে ফিরে তারা বিদায় নিল পেনাল্টিতে, তাও এমন এক জায়গায় যেখানে তাদের ইতিহাস ছিল প্রায় অজেয়






