‘খুব ভুগেছি, কিন্তু এটাই বিশ্বকাপ’, বললেন মেসি

মিশরের বিপক্ষে শেষ বাঁশি বাজার পর আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি লিওনেল মেসি। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচ শেষে সতীর্থদের আলিঙ্গনের মাঝে চোখ ভিজে যায় আর্জেন্টিনা অধিনায়কের।
আটলান্টার ম্যাচটি মেসির জন্য ছিল আবেগ, হতাশা ও মুক্তির এক অদ্ভুত মিশ্রণ। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের গল্প হয়তো আগেই বদলে যেতে পারত। পরে মিশর ২-০ এগিয়ে গেলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের শঙ্কা আরও ঘনিয়ে আসে।
কিন্তু শেষ দিকে বদলে যায় সব। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। ৮৩ মিনিটে মেসি নিজেই বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে সম্পূর্ণ হয় আর্জেন্টিনার ৩-২ জয়ের গল্প।
ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, যেভাবে জয় এসেছে, সেটি সবার জন্যই স্বস্তির। তার কথায়, ২-০ হয়ে যাওয়ার পর ম্যাচ খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। আবারও অনেক ভুগতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। তবে এটাই বিশ্বকাপ, সব ম্যাচই কাছাকাছি লড়াইয়ের। তাই এই জয়ে তিনি খুব খুশি।
আর্জেন্টিনা দলের মানসিকতা নিয়েও গর্ব করেন মেসি। তিনি বলেন, এই দল কখনো হাল ছাড়ে না। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যায়। রোমেরোর গোলটি দ্রুত হওয়ায় আর্জেন্টিনার হাতে সময় ছিল, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পেরেছে তারা।
পেনাল্টি মিসের হতাশাও লুকাননি মেসি। তিনি জানান, আবার পেনাল্টি মিস করায় তিনি খুব রাগান্বিত ও কষ্ট পেয়েছিলেন। তার মতে, সেই সময় গোল হলে ম্যাচের গতিপথ বদলে যেতে পারত। তবে শেষ পর্যন্ত দলকে সাহায্য করতে পারায় মুহূর্তটি তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে।
৩৯ বছর বয়সেও মেসি বিশ্বকাপের কেন্দ্রীয় চরিত্র। মিশরের বিপক্ষে গোলটি ছিল এবারের আসরে তার অষ্টম, বিশ্বকাপে মোট ২১তম। কিন্তু সংখ্যার বাইরেও এই রাতের সবচেয়ে বড় ছবি হয়তো মেসির চোখের জলই। একজন কিংবদন্তির, যিনি এখনও শেষ বাঁশির আগে হার মানতে শেখেননি।
আর্জেন্টিনা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচের জয়ীর অপেক্ষায়। ম্যাচটি হবে স্থানীয় সময় শনিবার, কানসাস সিটিতে।




