পাহাড়ধসের শঙ্কা, তবুও আবাসস্থল ছাড়তে নারাজ

নিম্নচাপের প্রভাবে রাঙামাটিতে টানা ভারী বর্ষণ চলছে। এতে জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে পাহাড়ধসের শঙ্কা। ধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে অনেক বাসিন্দা এখনো তাদের আবাসস্থল ছাড়তে নারাজ।
রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত—এই ১২ ঘণ্টায় ২০৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যাকে আবহাওয়াবিদেরা অতি ভারী বর্ষণ বলছেন।
ইতোমধ্যে রাঙামাটি শহরের সদরের ভেদভেদী পোস্ট অফিস কলোনিসহ বেশ কিছু এলাকায় ছোট ছোট পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, লোকনাথ মন্দিরসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে মাইকিং করছে প্রশাসন। এই কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস, পৌরসভা, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে গঠিত টিম বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছে। সদরে ১১টিসহ জেলায় মোট ২১২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রশাসনের এত তৎপরতার পরও অধিকাংশ আশ্রয় কেন্দ্র এখনো ফাঁকা পড়ে আছে। রাঙামাটি শহরের পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সংখ্যা ২৮টি এবং পুরো জেলায় এই সংখ্যা ৮২টি। যেখানে এক প্রকার মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেই বাস করছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
ভেদভেদী পোস্ট অফিস কলোনির বাসিন্দা নাদিয়া আক্তার বলেন, দুপুরের জন্য রান্না করছিলাম, তখন হঠাৎ বিকট শব্দ হলো। বাইরে এসে দেখি পাহাড় ভেঙে পড়েছে। তখন স্থানীয়দের খবর দিলে তারা মাটি সরানোর কাজ শুরু করতে যায়, কিন্তু তখনই আরও বড় একটি পাহাড় ভেঙে পড়ে। আমাদের রান্নাঘরেও মাটি ঢুকে গেছে।
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা সুজন দাশ বলেন, সকালে আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলাম। আশপাশে পাহাড় ভাঙার খবর শুনে একটু খোঁজ নিতে এখানে এসেছি।
শহরের লোকনাথ মন্দির এলাকার বাসিন্দা রোকছানা আক্তার বলেন, আমরা গরিব মানুষ, কোথায় যাব? টাকা থাকলে ভালো জায়গা কিনে সেখানে থাকতাম। দেখি বৃষ্টি আরও বেশি হলে তখন আশ্রয় কেন্দ্রে যাব।
রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ (সদর সার্কেল) মো. তারেক সেকান্দার বলেন, জেলা প্রশাসনের সাথে আমরা একযোগে কাজ করছি। বিভিন্ন এলাকায় যারা এখনো ঝুঁকি নিয়ে বাসাবাড়িতে আছেন, তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়া বলেন, যারা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য দুপুর ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা এখনো ঝুঁকি নিয়ে ঘরে আছেন, তারা দ্রুত আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসুন। আমরা একটিও প্রাণহানি চাই না।




