আইফোন ১৮ সিরিজে নতুন যেসব ফিচার থাকার গুঞ্জন, জানা গেল সম্ভাব্য দাম

অ্যাপল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আইফোন ১৮ সিরিজের ঘোষণা না দিলেও বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের প্রতিবেদনে নতুন মডেলটি নিয়ে নানা তথ্য সামনে আসছে। গুঞ্জন অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রোতে ক্যামেরা, ডিসপ্লে, প্রসেসর, ব্যাটারি ও ডিজাইনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে অ্যাপল।
তবে এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। নিচে আইফোন ১৮ প্রো নিয়ে আলোচিত পাঁচটি সম্ভাব্য পরিবর্তন তুলে ধরা হলো।
সেপ্টেম্বরে প্রো মডেল
ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার আইফোন ১৮ সিরিজের সব মডেল একসঙ্গে বাজারে নাও আসতে পারে।
গুঞ্জন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৮ প্রো, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এবং অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করা হতে পারে। অন্যদিকে সাধারণ আইফোন ১৮, আইফোন এয়ার ২ এবং আইফোন ১৮ই ২০২৭ সালের বসন্তে বাজারে আসতে পারে।
ডাইনামিক আইল্যান্ড
বর্তমান আইফোনের ডিসপ্লের ওপরে থাকা ডাইনামিক আইল্যান্ড আরও ছোট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট পিসিম্যাগ জানিয়েছে, অ্যাপল ফেস আইডির কিছু সেন্সর ডিসপ্লের নিচে স্থাপন করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।
এতে ডিসপ্লেতে কাটআউটের আকার ছোট হবে। ফলে ভিডিও দেখা, গেম খেলা কিংবা ওয়েব ব্রাউজিংয়ের সময় ব্যবহারকারীরা আরও বেশি স্ক্রিন ব্যবহার করতে পারবেন।
ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার ক্যামেরা
আইফোন ১৮ প্রোর সবচেয়ে বড় আপগ্রেডগুলোর একটি হতে পারে নতুন ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার ক্যামেরা।
বর্তমান আইফোনে ক্যামেরার অ্যাপারচার স্থির থাকে। নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হলে আলোর পরিমাণ অনুযায়ী লেন্সের মুখ নিজে থেকেই বড় বা ছোট হবে। ফলে কম আলোতে উজ্জ্বল ছবি এবং বেশি আলোতে আরও নিয়ন্ত্রিত ও উন্নত মানের ছবি তোলা সম্ভব হতে পারে।
২ ন্যানোমিটার ‘এ২০ প্রো’ চিপ
আইফোন ১৮ প্রোতে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো প্রসেসর ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি হবে, যা আগের ৩ ন্যানোমিটার চিপের তুলনায় আরও শক্তিশালী এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে পারে।
এছাড়া এতে টিএসএমসির ওয়েফার-লেভেল মাল্টি-চিপ মডিউল (ডব্লিউএমসিএম) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। এর ফলে প্রসেসর, গ্রাফিক্স, নিউরাল ইঞ্জিন ও র্যাম আরও সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স বাড়বে।
বড় ব্যাটারি ও নতুন রঙ
নতুন ফিচারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আইফোন ১৮ প্রোতে বড় ব্যাটারি দেওয়া হতে পারে। সে কারণে ফোনটি সামান্য পুরু হতে পারে।
নতুন প্রসেসর ও ডিসপ্লের উন্নত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির কারণে ব্যাটারি ব্যাকআপও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
রঙের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। গুঞ্জন অনুযায়ী, ব্ল্যাক, সিলভার ও লাইট ব্লুর পাশাপাশি নতুন ডার্ক চেরি রঙের একটি সংস্করণ বাজারে আনতে পারে অ্যাপল।
সম্ভাব্য দাম
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রোর প্রাথমিক মূল্য ১ হাজার ২৯৯ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা) থেকে শুরু হতে পারে। আর আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ১ হাজার ৩৯৯ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা) পর্যন্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যন্ত্রাংশের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার আইফোনের দাম বাড়তে পারে।
তবে অ্যাপল এখনো আইফোন ১৮ প্রোর কোনো ফিচার, মূল্য বা উন্মোচনের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। তাই এসব তথ্যকে আপাতত প্রযুক্তিবিশ্বে প্রচলিত গুঞ্জন ও বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রভিত্তিক সম্ভাব্য তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
.png)






