Advertisement

‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করল গ্রামীণফোন

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করল গ্রামীণফোন
‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায় অনুষ্ঠানে অতিথিরা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও টেলিনরের সঙ্গে পার্টনারশিপের ভিত্তিতে ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করেছে গ্রামীণফোন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর পাশাপাশি এই উদ্যোগটির প্রথম পর্যায়ের অর্জিত সাফল্যও উদ্‌যাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী।

অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের হেড অব এনভায়রনমেন্ট, সোশ্যাল ও গভর্ন্যান্স (ইএসজি) ফারহানা ইসলাম এবং ডিজিটাল ইনক্লুশন লিড তাজরিবা খুরশীদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এরপরই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির প্রসারের ওপর একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস; জিএসএমএয়ের সিনিয়র মার্কেট এঙ্গেজমেন্ট ম্যানেজার গগনদীপ মনচান্দা; টেলিনর এশিয়ার চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মনীষা ডোগরা; গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ এবং গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠনে বিভিন্ন খাতের যৌথ উদ্যোগের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

অনুষ্ঠানটি গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান এবং পিয়ালী সিনহা, শানু আক্তার, মোনালিসা আক্তার ইরিন ও অন্তরা আক্তারসহ উদ্যোগটির কয়েকজন সুবিধাভোগীর মধ্যে প্রাণবন্ত এক কথোপকথনের মাধ্যমে শেষ হয়।

সুবিধাভোগীরা জানান, কীভাবে এই কর্মসূচিটি তাদের ডিজিটাল দক্ষতাকে শক্তিশালী করে এর মাধ্যমে শিক্ষা, জীবিকা ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

উদ্যোগটি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩২টি জেলাজুড়ে ৩৩ লাখেরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে, যার মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ নারী ও কিশোরী। এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে ২০২৮ সালের মধ্যে ৪০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে নারীদের অনুপাত হবে সুবিধাভোগীদের ৭০ শতাংশ। প্রথম পর্যায়ে দেশজুড়ে শিক্ষার জন্য ইন্টারনেটের ব্যবহার, অনলাইন সরকারি পরিষেবা গ্রহণ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীরা যেন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, সরকারি সেবা এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে অর্থবহভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, এজন্য তাদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতায় দক্ষ করে তুলতে নেওয়া এমন উদ্যোগগুলো সরকারের ভিশনকে সমৃদ্ধ করে। ২০২৮ সালের মধ্যে আটটি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে পৌঁছানোর যে লক্ষ্যমাত্রা এই পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে, তা আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো গোষ্ঠী যেন পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।’

তার মতে, এই ডিজিটাল যুগে টিকে থাকার জন্য মানুষকে দক্ষতা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ করা আমাদের জন্য ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ, যতটা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, ‘কার্যকর বা অর্থবহ কানেক্টিভিটি শুধু নেটওয়ার্ক কাভারেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার। গ্রামীণফোনের এই উদ্যোগটি পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কীভাবে ডিজিটাল বৈষম্য দূর হতে পারে তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, ‘ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি মানুষের জন্য শেখার, অর্জনের ও বিকাশিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। প্রথম পর্যায়ে আমরা দেখেছি, কীভাবে ডিজিটাল দক্ষতা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পরিবর্তন এনেছে। এই ধারাবাহিকতাকে কাজে লাগিয়ে, দ্বিতীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই জীবিকার ওপর নতুন লার্নিং মডিউল নিয়ে আমাদের লক্ষ্য আরও প্রসারিত হয়েছে। একই সঙ্গে এটি তরুণদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল বিশ্বে আরও বেশি মানুষ স্থায়ী অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরি করতে পারে।’

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, ‘প্রযুক্তি তখনই সমতা অর্জনের এক শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে, যখন সবার সামনে এটি নিরাপদে ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যবহারের সুযোগ থাকে। এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে কিশোরী, তরুণী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতায় ক্ষমতায়িত করছি। যাতে তারা তাদের অধিকার আদায় করতে, জীবনে চলার সক্ষমতা বাড়াতে এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে পারে। সবাই মিলে আমরা নিশ্চিত করছি যে, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে।’