Advertisement

ভালো হেডফোন কিনতে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ভালো হেডফোন কিনতে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি
হেডফোন কেনার আগে নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন, এটি মূলত কী কাজে ব্যবহার করবেন? ছবি : সংগৃহীত

হেডফোন এখন শুধু গান শোনার জন্য নয়। অনলাইন মিটিং, গেমিং, সিনেমা দেখা, পড়াশোনা কিংবা ফোনে কথা বলা, সব ক্ষেত্রেই এটি দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস। বাজারে নানা ধরনের হেডফোন থাকায় অনেকেই বুঝতে পারেন না কোনটি তাদের জন্য উপযুক্ত।

শুধু দাম বা ব্র্যান্ড দেখে হেডফোন কিনলে পরে আফসোস হতে পারে। তাই কেনার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করলে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক হেডফোন বেছে নেওয়া সহজ হবে।


প্রথমে ঠিক করুন কী কাজে ব্যবহার করবেন

হেডফোন কেনার আগে নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন, এটি মূলত কী কাজে ব্যবহার করবেন?

  • গান শোনার জন্য
  • অফিসের অনলাইন মিটিংয়ের জন্য
  • গেমিংয়ের জন্য
  • ভ্রমণের সময় ব্যবহারের জন্য
  • ভিডিও সম্পাদনা বা পেশাদার অডিও কাজের জন্য

ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী হেডফোনের বৈশিষ্ট্যও ভিন্ন হয়। তাই প্রয়োজন বুঝে নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তারযুক্ত নাকি ওয়্যারলেস?

বর্তমানে দুই ধরনের হেডফোনই জনপ্রিয়।

তারযুক্ত হেডফোন

  • শব্দের মান সাধারণত ভালো হয়।
  • চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
  • অডিওতে বিলম্ব খুব কম।

ওয়্যারলেস হেডফোন

  • সহজে বহন করা যায়।
  • তারের ঝামেলা নেই।
  • ব্লুটুথের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিভাইসে সহজে সংযুক্ত করা যায়।

যারা নিয়মিত যাতায়াত করেন বা ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য ওয়্যারলেস হেডফোন সুবিধাজনক হতে পারে। আর যারা স্টুডিওর কাজ বা গেমিং করেন, তারা অনেক সময় তারযুক্ত হেডফোনকেই বেশি গুরুত্ব দেন।

সঠিক ধরনের হেডফোন বেছে নিন

বাজারে সাধারণত কয়েক ধরনের হেডফোন পাওয়া যায়।

  • ওভার-ইয়ার
  • অন-ইয়ার
  • ইন-ইয়ার বা ইয়ারফোন
  • ট্রু ওয়্যারলেস ইয়ারবাড

ওভার-ইয়ার হেডফোন দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে তুলনামূলক আরামদায়ক এবং শব্দের মানও ভালো হতে পারে। অন্যদিকে ইয়ারবাড ছোট ও বহন করা সহজ।

শব্দের মান কেমন?

ভালো হেডফোনে শুধু জোরে শব্দ হলেই হবে না। শব্দ পরিষ্কার, ভারসাম্যপূর্ণ এবং বিকৃতি ছাড়া হওয়াও জরুরি।

সম্ভব হলে কেনার আগে গান শুনে বা ডেমো ব্যবহার করে শব্দের মান যাচাই করুন। বিশেষ করে ভোকাল, বেস এবং উচ্চ স্বরের ভারসাম্য কেমন, তা লক্ষ্য করুন।

নয়েজ ক্যানসেলেশন প্রয়োজন কি?

যদি আপনি বাস, ট্রেন, বিমান বা ব্যস্ত অফিসে বেশি সময় কাটান, তাহলে অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন বা ANC সুবিধাযুক্ত হেডফোন উপকারী হতে পারে।

এই প্রযুক্তি বাইরের শব্দ অনেকটাই কমিয়ে দেয়, ফলে কম ভলিউমেও আরাম করে গান শোনা বা কথা বলা যায়।

ব্যাটারি ব্যাকআপ দেখুন

ওয়্যারলেস হেডফোন কিনলে ব্যাটারি ব্যাকআপ খুব গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক মডেল একবার চার্জে ২০ থেকে ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। দ্রুত চার্জিং সুবিধা থাকলে আরও ভালো।

মাইক্রোফোনের মান কেমন

যারা নিয়মিত ফোনে কথা বলেন বা অনলাইন মিটিং করেন, তাদের জন্য ভালো মানের মাইক্রোফোন প্রয়োজন।

শব্দ পরিষ্কারভাবে পৌঁছায় কি না এবং আশপাশের শব্দ কতটা কমাতে পারে, সেটিও বিবেচনায় রাখুন।


আরামদায়ক কিনা

হেডফোন কয়েক মিনিট নয়, অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যবহার করতে হয়। তাই এটি মাথা ও কানে আরামদায়ক হওয়া জরুরি।

কানের কুশন নরম কি না, ওজন বেশি কি না এবং হেডব্যান্ড ঠিকভাবে ফিট হয় কি না, সেগুলো দেখে নিন।

টেকসই কিনা

হেডফোনের নির্মাণমানও গুরুত্বপূর্ণ।

ভাঁজ করা যায় কি না, কেবল শক্তপোক্ত কি না এবং পানি বা ঘাম প্রতিরোধের সুবিধা থাকলে তা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সহজ হয়। যারা ব্যায়াম করেন, তারা আইপি রেটিংযুক্ত মডেল বেছে নিতে পারেন।

ব্লুটুথ ভার্সন ও কোডেক দেখে নিন

ওয়্যারলেস হেডফোন কিনলে ব্লুটুথের নতুন সংস্করণ থাকলে সংযোগ আরও স্থিতিশীল হয় এবং ব্যাটারিও কম খরচ হয়।

এ ছাড়া AAC, aptX বা LDAC-এর মতো অডিও কোডেক সমর্থন করলে অনেক ক্ষেত্রে আরও ভালো মানের শব্দ পাওয়া যায়। তবে ডিভাইসেও সেই কোডেক সমর্থিত হতে হবে।

ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা

হেডফোন কেনার সময় ওয়ারেন্টির মেয়াদ এবং বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে জেনে নিন। পরিচিত ব্র্যান্ডের পণ্য কিনলে প্রয়োজনের সময় সার্ভিস পাওয়া সহজ হয়।

হেডফোন কেনার সময় শুধু দাম বা আকর্ষণীয় নকশা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। এটি কী কাজে ব্যবহার করবেন, শব্দের মান, আরাম, ব্যাটারি, মাইক্রোফোন, নয়েজ ক্যানসেলেশন এবং নির্মাণমানের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করলে আপনার প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই একটি হেডফোন বেছে নেওয়া সহজ হবে। একটু সময় নিয়ে যাচাই করে কিনলে একই হেডফোন দীর্ঘদিন স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করা সম্ভব।

সূত্র:রিলায়েন্স ডিজিটাল