সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া, আনছে পরমাণু অস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ

পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম নতুন ৫ হাজার টন ওজনের একটি ড্রেস্ট্রয়ার (নৌ বিধ্বংসী) নৌবাহিনীতে যুক্ত করতে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। এ জন্য ডেস্ট্রয়ার কাং কন থেকে ‘কৌশলগত’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। আর তা প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ করেছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। একইসঙ্গে দুই মাসের মধ্যে যুদ্ধজাহাজটিকে নৌবাহিনীতে কমিশন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৫ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘কৌশলগত’ অস্ত্র বলতে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যবস্থাকে বুঝিয়েছে উত্তর কোরিয়া। অর্থাৎ পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন নৌবাহিনী গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তারা।
কেসিএনএর তথ্য অনযায়ী, শুক্রবার কিম কান কন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, নৌ কামান, স্বয়ংক্রিয় বন্দুক ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জামের পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। গত জুনে যুদ্ধজাহাজটি পানিতে নামানো হয়। এর আগে প্রথমবার জাহাজাটি পানিতে নামানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল এবং সেটি উল্টে গিয়েছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার উত্তর কোরিয়া পূর্ব সাগরের দিকে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সিউল ও ওয়াশিংটন ঘটনাটির বিস্তারিত বিশ্লেষণ করছে।
কেসিএনএ বলেছে, সর্বশেষ অস্ত্র পরীক্ষা ছিল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ডেস্ট্রয়ারের বিভিন্ন অস্ত্রব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়ের অংশ।
কিম জং উন দেশের যুদ্ধ প্রতিরোধ ও যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিরঙ্কুশ সামরিক শক্তি অর্জনের রাজনৈতিক অঙ্গীকার আরও দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি ডেস্ট্রয়ারটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে দুই মাসের মধ্যে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ বৈঠকও করেন বলে জানিয়েছে কেসিএনএ।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটি হোয়াসাল সিরিজের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা নতুন ডেস্ট্রয়ারগুলোতে মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার ভাষায় ‘কৌশলগত’ অস্ত্র বলতে সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যবস্থা বোঝানো হয়।
গত মাসে উত্তর কোরিয়া চোয়ে হিয়ন নামে আরেকটি ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে। দেশটি জানিয়েছে, জাহাজটি পশ্চিম সাগরে প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধ প্রতিরোধের দায়িত্ব পালন করবে।
কোরিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরামের মহাসচিব শিন জং-উর মতে, পশ্চিম সাগরে চোয়ে হিয়ন এবং পূর্ব সাগরে কাং কন মোতায়েনের মাধ্যমে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন নৌবাহিনী গঠনের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া।
পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি যদি পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন নৌবাহিনী গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে এই তালিকায় ষষ্ঠতম দেশ হিসেবে নাম লেখাবে উত্তর কোরিয়া। ইতোমধ্যে এই তালিকার সবচেয়ে শক্তিসম্পন্ন নাম হলো রাশিয়া।
এর পরেই রয়েছে চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ভারত। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিলসহ আরও কয়েকটি দেশের পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরির প্রকল্প বা পরিকল্পনা বর্তমানে চলমান রয়েছে।





