টাইফুন বাভির আঘাতে বিপর্যস্ত চীন, ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’র তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীনের পূর্বাঞ্চল। ঝড়ের প্রভাবে চীনের ঘনবসতিপূর্ণ অন্যান্য শহরেও প্রচণ্ড বেগে বাতাস এবং ভারী বৃষ্টিপাত দেখা গেছে। রোববার (১২ জুলাই) আঘাত হানা এ ঝড় মোকাবিলায় চীনের সক্ষমতা এখন বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, রোববার সকালের মধ্যে বাভি স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হওয়ায় কিছুটা দুর্বল হয়ে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হয়েছে। তবে ফ্রান্সের সমান আয়তনের এই ঝড় আগামীতে পূর্ব ও উত্তর চীন জুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দেওয়া তথ্যের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঝড়ের কবল থেকে বাঁচাতে ইতোমধ্যে ২৮ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২২ লাখের বেশি মানুষ চীনের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত কেন্দ্র চিজিয়াং প্রদেশের বাসিন্দা।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। টাইফুন বাভি গতকাল শনিবার রাতে চিজিয়াংয়ের উপকূলীয় শহর ইউহুয়ানে প্রথম আঘাত হানে এবং পরবর্তীতে মধ্যরাতের দিকে ওয়েনজু শহরের অংশ ইউয়েচিংয়ে দ্বিতীয়বার স্থলভাগে আছড়ে পড়ে। উপকূলের বাসিন্দারা জানান, ঝড়ের সময় বাতাসের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, চারদিকে শুধু ছাদের টাইলস এবং গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
ঝড়ের তাণ্ডবে ইউয়েচিং শহর জুড়ে ১৩শ-এর বেশি গাছ ভেঙে পড়েছে, যার মধ্যে ৭০০-এরও বেশি গাছ শিকড়সহ উপড়ে গেছে। বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে গাড়ির টায়ারের অর্ধেক উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার সকাল থেকে উদ্ধারকারী দলগুলো এক্সকাভেটর এবং চেইনসো নিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের কাজে নেমেছে।
অন্যদিকে পাহাড়ি এলাকায় বড় ধরণের ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। উপকূলীয় মাছ ধরার শহর কানমেনের বাসিন্দারা জানান, সমুদ্রমুখী ঘরবাড়ি ও দোকানপাটের ছাউনি ভেঙে পড়েছে এবং ঘরের ভেতর বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে। অনেকে ঝড়ের তাণ্ডবে পুরো রাত না ঘুমিয়ে পার করেছেন।
চীনের আগে বাভি শনিবার উত্তর তাইওয়ান অতিক্রম করে। সেখানে তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ১৩৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই মোটরবাইক থেকে পড়ে গিয়ে বা ওড়ন্ত বস্তুর আঘাতে আহত হন। তাইওয়ানে ১৩৭টি আন্তর্জাতিক ও ৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই ঝড়ের প্রভাব পড়েছে চীনের যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। চিজিয়াংয়ের প্রাদেশিক রাজধানী হাংচুর দুটি প্রধান ট্রেন স্টেশন সমস্ত চলাচল স্থগিত করেছে এবং শিয়াওশান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩২৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেশী সাংহাইতে ১ হাজার ৬২০টি ট্রেন যাত্রা এবং ৬৮৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাভি বর্তমানে পূর্ব আনহুই প্রদেশে অবস্থান করছে এবং আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে উত্তর পীত সাগরে প্রবেশের আগে এটি উত্তর-পূর্ব দিকে মোড় নিতে পারে। এর ফলে আগামীকাল সোমবার থেকে জিলিন, লিয়াওনিং, হেবেই, শানডং, জিয়াংসু এবং আনহুই প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।




