শুকিয়ে যাচ্ছে ইতালির দীর্ঘতম নদী, খরার শঙ্কায় বিপাকে কৃষকরা

তীব্র তাপদাহে পুড়ছে ইউরোপ। প্রখর রোখ আর গরমে নাকাল জনজীবন। আবহাওয়া উষ্ণায়নের মধ্যে ইতালির দীর্ঘতম নদী ‘পো’ শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। নদীটির পানির স্তর নেমে যাওয়ায় এখন উল্টো সমুদ্রের নোনা পানি নদীতে চুঁইয়ে ঢুকছে। এর ফলে নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ কৃষিপ্রধান অঞ্চল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপীয় দেশটির এই অঞ্চলটি বিশ্বখ্যাত ‘পারমেসান চিজ’ বা পনির তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় দুধ উৎপাদনকারী খামারগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বছরের এই সময়ে পো নদীর পানি এর আগে কখনো এত নিচে নামেনি, যা আগামী জুলাই মাসে উত্তর ইতালিতে এক ভয়াবহ খরার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
নদীর পানি কমে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। ফেদেরিকা ভিদালি নামের এক কৃষক জানান, তার সূর্যমুখী ক্ষেতের একটি অংশ ইতোমধ্যেই শুকিয়ে ফেটে গেছে। ক্ষেতে সেচ দেওয়ার দুটি খালের একটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কারণ নদীতে সমুদ্রের নোনা পানি ঢুকে পড়েছে, যা ফসলের ক্ষতি করবে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নদীর উজান থেকে অন্য অঞ্চলের মানুষ পানি ব্যবহারের পর যা অবশিষ্ট থাকে, শুধু সেটুকুই তারা পাচ্ছেন।
আঞ্চলিক নদী সংস্থা ‘আইপো’-র তথ্য অনুযায়ী, পো নদীর পানির প্রবাহ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মারাত্মকভাবে কমে গেছে। জুন মাসে যেখানে নদীটিতে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ১ হাজার ৫০০ ঘনমিটার পানি প্রবাহিত হতো, তা এখন কমে ৩০০ ঘনমিটারের নিচে নেমে এসেছে।
ইতালীয় সেচ সমিতি (আনবি)-র স্তেফানো কালদেরোনি বলেন, এত দ্রুত, এত আগে এটি আগে কখনো কমেনি। নদীজুড়ে জেগে উঠছে অসংখ্য বালুচর। কোথাও কোথাও নদীর গভীরতা কমে এক মিটারেরও কম হয়ে গেছে। ফলে নৌযান চলাচলের পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নদীর অবশিষ্ট অল্প কয়েকজন জেলে প্রখর গরমে হাঁসফাঁস করছে।
কৃষি-শিল্পের কেন্দ্রস্থল পো উপত্যকায় পানি সরবরাহ করে আল্পস পর্বতমালার হ্রদগুলো। পর্বতমালার অসংখ্য হ্রদ এখনও প্রায় ৬০ শতাংশ পূর্ণ। তীব্র গরমের কারণে শুকিয়ে যাওয়া ক্ষেত বাঁচাতে কৃষকেরা হ্রদগুলো থেকে প্রচুর পানি তুলছেন। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবার শীতের পর পাহাড়ের বরফ অনেক আগেই গলে শেষ হয়ে গেছে, যা সাধারণত গ্রীষ্মে হ্রদগুলোকে পূর্ণ রাখত।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘লেগাম্বিয়েন্তে’র বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি খরা পর্যায়ে না পৌঁছালেও, পানি ব্যবহারের এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মজুত পানি শেষ হয়ে যাবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান






