ইরান যুদ্ধে হতাহত সৈন্যের তথ্য লুকাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ধারাবাহিক হামলায় কয়েক ডজন সেনা আহত হওয়া এবং সামরিক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য গোপন রাখছে পেন্টাগন। সোমবার (২০ জুলাই) প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
সামরিক অভিযানের স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হন। এর আগের সপ্তাহে সেখানে মার্কিন বাহিনীর ওপর তিনটি পৃথক হামলা চালিয়েছিল ইরান। সেসব হামলায় কয়েক ডজন মার্কিন সেনা আহত হন এবং বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে পেন্টাগন ওই হামলাগুলোর ঘটনা, হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্যই প্রকাশ করেনি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম নিউজনেশনের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, নিহত সেনারা দেশের সেবায় প্রাণ দিয়েছেন।
পরে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র জানান, ৭ জুলাইয়ের পর থেকে ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা প্রায় ১০০ ছুঁয়েছে।
অবশ্য পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল দাবি করেছেন, যুদ্ধে মার্কিন হতাহতের কোনো তথ্য সেনাবাহিনী গোপন বা বিকৃত করেনি। তিনি জানান, তথ্য গোপনের দাবিগুলো মনগড়া এবং মার্কিন জনগণকে উদ্বিগ্ন করতে এসব বলা হচ্ছে। ডিফেন্স ক্যাজুয়াল্টি অ্যানালাইসিস সিস্টেমে নিহত ও আহতদের তথ্য নিয়মিত আপডেট করা হয়।
যদিও সবার জন্য উন্মুক্ত ওই সাইটে শুধু সামগ্রিক পরিসংখ্যান থাকে, কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো হামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য সেখানে দেওয়া হয় না। পেন্টাগনের সেই সাইটের হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪২৭ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন ১৪ জন। গত শুক্রবার জর্ডানে নিহতদের তথ্য সেখানে এখনও যোগ করা হয়নি।
অন্যদিকে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে এ নিয়ে মোট ১৭ জন মার্কিন সামরিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে জানালেও জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলার কথা উল্লেখ করেনি। এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, আহত সেনারা দ্রুত ডিউটিতে ফিরলে তথ্য প্রকাশে বাধ্যবাধকতা থাকে না।
আরেক কর্মকর্তা জানান, জর্ডান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ঘাঁটিতে থাকা হাজার হাজার সেনার সুরক্ষায় তথ্য ফাঁস রোধ করা হচ্ছে, যাতে ইরান তাদের নিখুঁত লক্ষ্যবস্তু বানাতে না পারে। একই কারণে ইরানে প্রতিদিন ঠিক কতগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হচ্ছে, সেই ঘোষণাও বন্ধ রেখেছে সেন্টকম।
ট্রাম্প প্রশাসন গত কয়েক মাসে ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে টান পড়া কিংবা ইরানের নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গড়ে তোলার মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গোপন করেছে। সাবেক বাইডেন প্রশাসনের আমলে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা হতাহতের নিয়মিত রিপোর্ট দেওয়া হলেও, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন ও পেন্টাগন অপারেশনের নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে এবার পুরো বিষয়টি নিয়ে চরম গোপনীয়তা বজায় রাখছে।
.png)






