Advertisement

আন্দোলনে গালাগালির অভিযোগ তুলে মোদির ভিডিও বার্তা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
আন্দোলনে গালাগালির অভিযোগ তুলে মোদির ভিডিও বার্তা
ভিডিও বার্তায় কথা বলছেন নরেন্দ্র মোদি। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন চলাকালে গালিগালাজের শিকার হয়েছেন বলে এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ তুলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এ ঘটনার পর ক্ষোভ না দেখিয়ে সংযম ও ক্ষমার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক প্রকাশিত ভিডিও বার্তার ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘গালিগালাজ কখনও কোনো কিছুর সমাধান করে না। আসুন বিভ্রান্তদের পথ দেখাই। চলুন একসঙ্গে কাজ করি। আসুন ভারতের জন্য কাজ করি।’

ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে তা দেশ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিভ্রান্ত তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, সভ্য সমাজে যার কোনো স্থান নেই। আমাকে গালি দেওয়া হয়েছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও গালি দেওয়া হয়েছে।’

গালিগালাজ কখনও কোনো সমাধান আনে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা ভুল পথে চালিত হয়েছে তাদের শাস্তি দেওয়ার চেয়ে সমাজের উচিত তাদের সঠিক পথ দেখানো।’

গত ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরে কোকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ উঠে, ওই বিক্ষোভে ২৫ বছর বয়সি এক নারী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও গালিগালাজ করেন। সেই আপত্তিকর স্লোগানের জেরে ওই তরুণীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কয়েক দিন পর প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সামনে এলো।

আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, তিনি মনে করেন না যে রাগ বা প্রতিশোধ নেওয়া এর কোনো উত্তর হতে পারে। আন্দোলনকারীদের ভুল থেকে শেখার উপযোগী তরুণ সমাজ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ভিডিওতে বলেন, ‘শৈশবে বা তরুণ বয়সে ভুল হয়, আর এই বয়সটাই সেই ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার সুযোগও দেয়। তরুণ হওয়ার মানেই তো এটা।’

সমাজে ক্ষোভ তৈরি হওয়াকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু এখন এই সন্তানদের কাছে টেনে নেওয়া এবং তাদের সঠিক পথ দেখানোর সময় এসেছে। তারা পথভ্রষ্ট শিশু। তাদের পথ দেখানো আমাদের দায়িত্ব। তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতে টানাটানি করা এবং হেনস্তা করা পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাবে না।’

মোদি বলেন, ‘আমি তাদের ক্ষমা করতে চাই। আমি সমাজকেও অনুরোধ করছি যেন আমি যা বলছি তা গ্রহণ করে। গালিগালাজ কখনও সমস্যার সমাধান করে না। যারা পথ হারিয়েছে আসুন তাদের পথ দেখাই। চলুন আমরা একসঙ্গে কাজ করি। আসুন ভারতের জন্য কাজ করি।’

এদিকে ওই ঘটনার জেরে শান্তি ভঙ্গ করার উসকানি, জনমনে গোলযোগ সৃষ্টিকারী বক্তব্য দেওয়া এবং মানহানি সম্পর্কিত ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’র ৩৫২, ৩৫৩(১) ও ৩৫৬(১) ধারায় নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে পুলিশ স্টেশনে একটি ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করা হয়েছে। জিরো এফআইআর হিসেবে ঘটনা ঘটার এলাকার বাইরে মামলাটি নথিভুক্ত করা হলেও পরে পরবর্তী তদন্তের জন্য এটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তর করা হয়।

অন্যদিকে মামলার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা আপত্তিজনক হতে পারে। তবে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যের জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা উচিত নয় বলে তিনি যুক্তি দেন।

সৌরভ দাস বলেন, ‘অবশ্যই, যদি এমন কোনো ভাষা ব্যবহার করা হয়ে থাকে যা অবমাননাকর, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানি মানহানি এবং ফৌজদারি মানহানির মামলা করার ক্ষেত্রে মুক্ত। তবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আপত্তিজনক ভাষার জন্য কারও শাস্তি হওয়া উচিত নয়।’