লিবিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে নিখোঁজ ৫০ অভিবাসী

ইউরোপে পাড়ি জমানের সময় উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার পূর্ব উপকূলে প্রায় ৬০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-শিশুসহ অন্তত ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তারা ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) লিবিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি)।
পূর্ব লিবিয়ার কোস্টগার্ড জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার উপকূলীয় শহর তোবরুকের অদূরে বারদা দ্বীপের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ১০ জন অভিবাসী কোনোমতে সাঁতরে দ্বীপে উঠে নিজেদের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হন। নিখোঁজ বাকি অভিবাসীদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে সমুদ্রে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় থাকা অভিবাসীদের জন্য লিবিয়া অন্যতম প্রধান ট্রানজিট ও এক্সিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে ভূমধ্যসাগরের এই বিপদসংকুল রুটে প্রায়ই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। মাত্র গত মাসেই পূর্ব লিবিয়ার উপকূলে আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৫১ জন অভিবাসী মারা যান বা নিখোঁজ হন।
২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত এক অভ্যুত্থানে লিবিয়ার দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক মোয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হন। অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হয়েছিলেন। এরপর থেকেই মূলত দেশটিতে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
তবে এই অরাজক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধস্ত এবং দরিদ্রপীড়িত দেশগুলো থেকে পালিয়ে আস হাজার হাজার মানুষের জন্য লিবিয়া ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার অন্যতম প্রধান রুট হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রগুলো সাধারণত ইউরোপগামী অভিবাসীদের প্লাস্টিকের তৈরি অত্যন্ত ছোট ও অনিরাপদ নৌকায় গাদাগাদি করে তোলে। ফরে গভীর সমুদ্রে প্রায়ই নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মে-র মধ্যে কেবল ভূমধ্যসাগারীয় পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ৮ শতাধিক অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। আর গত বছর একই রুটে প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ।




