গ্রিন কার্ড আবেদনে গুনতে হতে পারে ১ লাখ ডলার

অভিবাসন সীমিত করার অংশ হিসেবে এবার গ্রিন কার্ডের আবেদনে বড় অঙ্কের অগ্রিম ফি নির্ধারণের কথা ভাবছে করছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থায়ী অভিবাসী ভিসার (গ্রিন কার্ড) জন্য আবেদনকারীদের ওপর ১ লাখ ডলার (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা) পর্যন্ত ফি আরোপ করা হতে পারে।
বুধবার (১৫ জুলাই) এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রথমে অল্প কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই নীতি চালু করার কথা ভাবছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আবেদনকারীদের এই বিপুল অঙ্কের টাকা জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে, যা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পর এই অর্থ ফেরত পাবেন। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই কঠোর নিয়মের পেছনের মূল যুক্তি হলো, কোনো গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর যদি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে না পারেন, তবে এই ফি মার্কিন সরকারের জন্য জামানত হিসেবে কাজ করবে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক, তাদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে।
তিনি আরও জানান, কিছু ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে জামানত জমা দেওয়ার শর্ত আরোপের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে এটা প্রমাণ করা যায় যে তাদের নিজেদের ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের জোগান রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল অঙ্কের ফি মূলত নিম্ন-আয়ের দেশগুলোর গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। কারণ, উচ্চ বেতনের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক অনেক বিদেশির পক্ষেই এককালীন এত বড় অঙ্কের খরচ বহন করা সম্ভব হবে না।
সাধারণত মার্কিন নাগরিকদের পরিবারের সদস্যরা (স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা বা ভাই-বোন) গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করে থাকেন। গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন এমন প্রায় ৫ লাখ ভিসা ইস্যু করেছিল।
সীমিত আয়ের বিদেশিদের অভিবাসন রোধে হোয়াইট হাউসের ধারাবাহিক কঠোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই নতুন ফি প্রস্তাবটি সামনে এসেছে। এর আগে গত জানুয়ারিতে, ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের ৭৫টি নির্দিষ্ট দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণে একটি ব্যাপক ও অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশ জারি করে। সম্পূর্ণ জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা স্থগিত করার কারণে এই নীতিটি এখনও মার্কিন আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।
তা ছাড়া গত জুন মাসে বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদনকারী মার্কিন নিয়োগকর্তাদের ওপর ১ লাখ ডলার ফি আরোপের একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে একজন ফেডারেল বিচারক রায়ে জানান যে, এই নতুন ফি আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন তার সাংবিধানিক ক্ষমতা লঙ্ঘন করেছে। কারণ এটি মূলত একটি কর হিসেবে কাজ করে। আর এই ধরনের কর আরোপের ক্ষমতা কেবল মার্কিন কংগ্রেসেরই রয়েছে। এর ফলে ট্রাম্পকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।
২০২৫ সালে ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ নামে একটি দ্রুত মার্কিন রেসিডেন্সি স্কিম বা দ্রুত গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রকল্প চালু করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জন্য ১ মিলিয়ন ডলার খরচের পাশাপাশি প্রসেসিং ফি হিসেবে আরও ১৫ হাজার ডলার দিতে হয়।
তবে আকাশচুম্বী খরচের কারণে প্রকল্পটির প্রতি ধনকুবেরদের আগ্রহ ছিল খুবই কম। চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত মাত্র ৩৩৮ জন ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’-এর জন্য আবেদন করেছিলেন।





