কিম জং উনের দেশকে ঠেকাতে ড্রোন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
কিম জং উনের দেশকে ঠেকাতে ড্রোন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপ থেকে শিক্ষা নিয়ে কিম জং উনের উত্তর কোরিয়াকে ঠেকাতে মনোনিবেশ করছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ জন্য সামরিক বাহিনীতে ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সিউল। প্রতিবেশী কিন্তু শত্রু দেশটির সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে তারা।

Advertisement

শুক্রবার (২৬ জুন) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাঁচ লাখ ‘ড্রোন যোদ্ধা’ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং সম্মুখসারির ইউনিটগুলোতে হাজার হাজার চালকবিহীন ব্যবস্থা সরবরাহ করা হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও মেরিন কোরে ব্যবহারের জন্য ২০২৯ সালের মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরে মন্ত্রণালয় সংখ্যা সংশোধন করে প্রায় ৬০ হাজারে নামিয়ে আনে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ড্রোন চলতি বছরেই চালু করা হবে।

মন্ত্রণালয় জানায়, সব বাহিনীতে ড্রোন সরবরাহ করা হবে এবং প্রতিটি সৈনিকের জন্য এটিকে একটি সাধারণ যুদ্ধসরঞ্জাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আন বলেন, ড্রোন শুধু বিশেষ ইউনিটের সরঞ্জাম নয়, বরং সৈনিকদের ‘দ্বিতীয় ব্যক্তিগত অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত।

২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংজুতে ড্রোন-বিরোধী মহড়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা চুনমাকে। ছবি: সংগৃহীত
২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংজুতে ড্রোন-বিরোধী মহড়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা চুনমাকে। ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তাজনিত কারণে ড্রোন তৈরিতে চীনা যন্ত্রাংশের বদলে শতভাগ দেশীয় উপাদান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এই ঘোষণা এমন সময় এল, যখন দুই কোরিয়াই ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ড্রোন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। আন বলেন, কম খরচের বিপুল সংখ্যক ড্রোন যুদ্ধের ধরন বদলে দিচ্ছে।

তিনি সতর্ক করেন, উত্তর কোরিয়াও দ্রুত চালকবিহীন ব্যবস্থা উন্নত করছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পরিকল্পনায় লেজার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভভিত্তিক ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাড়ানো এবং কেন্দ্রীয় কমান্ডের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন বাহিনীকে নিজস্ব নজরদারি ও হামলা অভিযানে ড্রোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, দ্রুত ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের ও একবার ব্যবহারযোগ্য ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ঝাঁক ড্রোন ও বিচরণকারী যুদ্ধাস্ত্র চালু করা হবে। দেশীয় ড্রোন শিল্প গড়ে তুলতে ক্রয়বিধিও সংস্কার করা হবে।

ড্রোন অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এই সম্প্রসারণের ঘোষণা এসেছে। চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইওল-কে উত্তর কোরিয়ায় সামরিক ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ওই অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্য ছিল ২০২৪ সালে তার সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টাকে ন্যায্যতা দেওয়া।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং–এর সরকার ড্রোন অভিযান কমান্ড বিলুপ্ত করেছে। নতুন পরিকল্পনায় নীতি নির্ধারণ, সক্ষমতা উন্নয়ন ও সহায়তায় কেন্দ্রীভূত একটি সংস্থা গঠন করা হবে, আর অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে স্বতন্ত্র সামরিক ইউনিটগুলোর ওপর।

একই সঙ্গে জনসংখ্যা হ্রাসের চাপও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে আরও বেশি স্বয়ংক্রিয় ও চালকবিহীন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।