ভারতে ‘এনার্জি ড্রিংকের’ নামে পেপসি-রেড বুল বিক্রি বন্ধের নির্দেশ

ভারতে ‘এনার্জি ড্রিংক’ বা শক্তিবর্ধক পানীয় নামে পেপসি ও রেড বুলের মতো পণ্য প্রচার ও বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উচ্চ মাত্রার ক্যাফেইন ও চিনিযুক্ত এসব পানীয়ের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর নাম ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফএসএসএআই)।
পেপসি, রেড বুল, মনস্টার ও রিলায়েন্সের মতো বৈশ্বিক ও দেশীয় জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পণ্য বিক্রি করতে হলে ‘এনার্জি ড্রিংক’ বা কোনো বিভ্রান্তিকর নাম ব্যবহার করা যাবে না।
চলতি মাসের শুরুতে এক নোটিশে এফএসএসএআই জানায়, দেশে এ জাতীয় পণ্যের সুনির্দিষ্ট কোনো মানদণ্ড নেই। এসব পানীয় ‘শরীর ও মন চাঙা করে’ কিংবা ‘দুর্বলতা দূর করে’—কোম্পানিগুলোর এমন দাবি পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর।
নথির বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেপসিকোর ‘স্টিং’, ‘রেড বুল’, ‘মনস্টার’ এবং রিলায়েন্সের ‘ক্যাম্পা এনার্জি’র মতো ব্র্যান্ডগুলোকে তাদের মোড়ক ও বিজ্ঞাপন থেকে ‘এনার্জি ড্রিংক’ শব্দটি বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার ইন্ডাস্ট্রি নির্বাহীদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এফএসএসএআই প্রধান রাজিত পুনহানি ব্যবসায়িক ক্ষতির যুক্তিতে লেবেল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পিছাতে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, প্রয়োজনে কোম্পানিগুলো আদালতের আশ্রয় নিতে পারে।
তবে সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈঠক শেষে কোম্পানিগুলো লেবেলিং পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে এবং বিষয়টি বাস্তবায়নে তাদের ৯০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন, চিনি এবং টরিনের মতো উপাদান থাকায় এসব পানীয় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ইউরোমনিটর অনুসারে, ভারতে ২০২৮ সালের মধ্যে এই পানীয়ের বাজার ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর কথা ছিল, যা চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও দ্রুত গতিতে বাড়ছিল। বিশেষ করে গ্রাম্য এলাকা ও কিশোর-তরুণদের মাঝে কম দামের কারণে স্টিংয়ের মতো পানীয় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং গ্রাহকদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে।
ইতোমধ্যে নীতিমালার অংশ হিসেবে ভারতের রাজস্থান রাজ্যে হাজার হাজার বোতল স্টিং, ক্যাম্পা এনার্জি ও রেড বুল জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ব্লিংকিট ও ইনস্টামার্টের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতেও ‘এনার্জি ড্রিংক’ নামে এগুলো প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও আগামী বছরের এপ্রিল থেকে ইংল্যান্ডে ১৬ বছরের কম বয়সীদের কাছে এ জাতীয় পানীয় বিক্রি নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে।
.png)





