Advertisement

ভারতের আন্দোলনে রসদ যোগাচ্ছে ব্যাঙ্গাত্মক মিম ও রিলস

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ভারতের আন্দোলনে রসদ যোগাচ্ছে ব্যাঙ্গাত্মক মিম ও রিলস
দিল্লির জন্তর মন্তরে মোদিকে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টার প্রদর্শন। ছবি: সংগৃহীত

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। দিল্লির জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে চলা এই আন্দোলনের চালিকাশক্তি মূলত তরুণরা। শিক্ষা সংস্কারের এই লড়াইয়ে তাদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে পোস্টারে ব্যঙ্গাত্মক পরিবেশনা, মিম ও অনলাইন রিলস।

আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন ধরনের চটুল পোস্টার প্রদর্শন করছেন। ২৭ বছর বয়সি পি হোসেন খানের একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘আমার এক্স (সাবেক প্রেমিকা) এবং এই সরকার—উভয়ই হৃদয়হীন।’

বিরোধীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের জবাবে লেখা হয়েছে, ‘কেউ আমাকে ফান্ড দেয় না, আমি ফ্রিতেই এই সরকারকে ঘৃণা করি।’ অন্যান্য পোস্টারে বলা হয়েছে, ‘পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, সুবিধার জায়গায় থাকা মানুষ (এমনকি অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষও) আজ এখানে এসেছে’ এবং ‘আইকিয়া’র মন্ত্রিসভা/ক্যাবিনেটও এর চেয়ে চেয়ে ভালো।’

পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে স্যানিটারি প্যাডের তুলনা টেনে ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টার প্রদর্শন
পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে স্যানিটারি প্যাডের তুলনা টেনে ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টার প্রদর্শন

প্রচারণায় চলচ্চিত্র ও দূরদর্শনের নানা রেফারেন্স ব্যবহার করা হচ্ছে। ‘তু ঝুঠি মে মক্কার’ সিনেমার পোস্টারে নরেন্দ্র মোদি ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের মুখ বসানো হয়েছে। মহাভারতের রূপক ব্যবহার করে কৃষ্ণের মুখ দিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়ার পোস্টারও তৈরি করা হয়েছে। এমনকি নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে স্যানিটারি প্যাডের তুলনা টেনে লেখা হয়েছে, ‘আমার প্যাড এনটিএ-র চেয়েও বেশি লিকপ্রুফ।’

মোদি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রীর ভাইরাল প্রসঙ্গ টেনে সানা ও মুসকান নামের দুই বোন লিখছেন, ‘মেলোডি খাও, দেশ নয়।’

অনলাইন মিমরে সঙ্গে মিল রেখে পোস্টার প্রদর্শন
অনলাইন মিমরে সঙ্গে মিল রেখে পোস্টার প্রদর্শন

ঢাকা (দিল্লি) কলেজ অব আর্টসের ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থী সানা জানান, পরীক্ষা থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি আন্দোলনে এসেছেন। এই প্রতিবাদ কেবল রাজপথে সীমাবদ্ধ নেই, অর্ধেক আন্দোলন চলছে অনলাইনে।

পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে শিক্ষার্থীদের দৌড়ানোর ভিডিওকে বিখ্যাত ‘সাবওয়ে সারফার্স’ গেমের সঙ্গে তুলনা করে রিল বানানো হয়েছে। আন্দোলনস্থলে অনুপস্থিত অনেকেই এটি দেখে আফসোস প্রকাশ করেছেন।

মহাত্মা গান্ধীর রূপ নেওয়া এক প্রবীণ আন্দোলনকারীর ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘পরিবেশ এমন দাঁড়িয়েছে যে, সিজন ১-এর প্লেয়ারকে ডাকতে হলো।’ টিয়ারশেল ব্যবহারের জবাবে যমুনার দূষণ টেনে বলা হয়েছে, ড্রেনে এর চেয়ে বেশি বিষাক্ত গ্যাস থাকে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, যার ‘ককরোচ’ মন্তব্যের কারণে সিজেপির জন্ম, তাকেও নিয়ে গানসহ মিম তৈরি হয়েছে।

তু ঝুঠি মে মক্কার সিনেমার পোস্টারে নরেন্দ্র মোদি ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের মুখ বসানো হয়েছে
তু ঝুঠি মে মক্কার সিনেমার পোস্টারে নরেন্দ্র মোদি ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের মুখ বসানো হয়েছে

অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কটাক্ষ করে লেখা হচ্ছে, সব ধর্ম, জাতি ও লিঙ্গকে এক করার জন্য তিনি নাকি এই জামানার ‘ইংরেজ’।

ইতিহাসের আকবরের রাজসভার বীরবল, হাবিব তানভীরের ‘চরণদাস চোর’ নাটক কিংবা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে আবু আব্রাহামের কার্টুনের মতো ঐতিহ্যকে জেন-জি তরুণরা এখন ডিজিটাল মাধ্যমে নামিয়ে এনেছেন।

রাশিয়ান দার্শনিক মিখাইল বখতিন এই ধরনকে ‘কার্নিভালেস্ক’ বলেছেন। আন্দোলনকারীরা মনে করেন, সরকার দাবি না মানলেও ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের এই প্রতিবাদ চিরকাল টিকে থাকবে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস