Advertisement

বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরে পেল দজলা-ফুরাতের সেই প্রাচীন জলাভূমি

এশিয়া পোস্ট নিউজ
বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরে পেল দজলা-ফুরাতের সেই প্রাচীন জলাভূমি

দীর্ঘ খরা আর পানির সংকটে শুকিয়ে যাওয়া ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের মেসোপটেমীয় হুওয়াইজা জলাভূমি আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সম্প্রতি এই অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় অনেক বছর পর প্রাচীন এই ঐতিহাসিক জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।

ইরাকের বিখ্যাত টাইগ্রিস (দজলা) ও ইউফ্রেটিস (ফোরাত) নদীর মাঝামাঝি অবস্থিত মেসোপটেমীয় জলাভূমিকে অনেকেই বাইবেলে বর্ণিত ‘জান্নাত’ বা ‘গার্ডেন অব ইডেন’ বলে মনে করেন। হাজার বছরের পুরোনো মেসোপটেমীয় হুওয়াইজাহ জলাভূমি আবার পানিতে টইটুম্বুর।

পানির পরিমাণ বাড়তে থাকায় তাজা সবুজ ঘাস, পানিতে ডুবে থাকা মহিষের দল আর ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন পশু-পাখির দৃশ্য ধরা পড়ছে। সেখানকার আকাশে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি উড়ছে।

এই জলাভূমি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সব মিলিয়ে একসময় শুষ্ক প্রান্তরে পরিণত হওয়া এই স্থান আগের রূপ ফিরতে শুরু করায় খুবই খুশি স্থানীয়রা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও উজানের দেশগুলোর বাঁধ নির্মাণের কারণে বছরের পর বছর ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই অঞ্চল।

bigStoryContent

স্থানীয় জেলে কাজেম কাসিদ বলেন, এখানকার প্রাণ, মাছ, গবাদিপশু আবার সবই ফিরবে। মানুষ আবার মনে করবে, তাদের ভবিষ্যৎ ও মাতৃভূমি ফিরে পেয়েছে।

ইরাকের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টাইগ্রিস নদীর জলাধার প্রায় পূর্ণ। আর সিরিয়া যদি তাদের বাঁধ থেকে পানি ছাড়ে, তাহলে ইউফ্রেটিস নদীর পানির স্তরও শিগগির আরও বাড়তে পারে।

bigStoryContent

পরিবেশকর্মী আহমেদ সালেহ নেমা জানান, বহু বছর পর এত পানি দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় জলাভূমির ৮৫ শতাংশ এলাকায় পানি এসেছে। তবে আরও বেশি পানির প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, এটা ইতিবাচক লক্ষণ। এর মানে, গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালেও জলাভূমি এখন পুরোপুরি শুকিয়ে যাবে না।