ডিএফটি ও আইকাও অডিট সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি বেবিচকের, অগ্রগতি ৮০ শতাংশ

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
ডিএফটি ও আইকাও অডিট সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি বেবিচকের, অগ্রগতি ৮০ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অডিটকে সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট (ডিএফটি) এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর নির্ধারিত অডিট উপলক্ষে নেওয়া প্রস্তুতির প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও ভালো অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

রোববার (১২ জুলাই) বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, আগামী ১৪ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ডিএফটির প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে নিরাপত্তা অডিট পরিচালনা করবে। এ অডিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যগামী যাত্রী ও কার্গোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূল্যায়ন করা হবে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান অনুসারে যাত্রী ও ডাক অথবা কার্গো নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করাই হবে এই অডিটের মূল লক্ষ্য।

অন্যদিকে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে আইকাওর ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম–কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (USAP-CMA) অডিট। এ সময় বেবিচক সদর দপ্তর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন আইকাওর বিশেষজ্ঞরা।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক এই দুটি অডিটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়মিতভাবে প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পরপর মন্ত্রণালয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রস্তুতির অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর থেকেই আইকাও অডিটের প্রস্তুতি শুরু হয়। নিরাপত্তার নয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তদারকির জন্য তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি নিয়মিত গ্যাপ অ্যানালাইসিস, অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করছে, যাতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সম্ভাব্য ঘাটতিগুলো দ্রুত পূরণ করা যায়।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতি মাসে বেবিচকের সদস্য (সিকিউরিটি)-এর নেতৃত্বে অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি দুই মাস অন্তর চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সমন্বয় সভা আয়োজন করা হচ্ছে। এসব সভায় প্রস্তুতির অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

বেবিচক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সার্বিক প্রস্তুতির প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক করতে অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন, উন্নত স্ক্যানারসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জামের ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট (এফএটি) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব সরঞ্জাম আগামী আগস্টে দেশে পৌঁছাবে এবং ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অডিটের আগে নিজেদের প্রস্তুতি আরও নিখুঁতভাবে যাচাই করতে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বেবিচক নিজস্ব উদ্যোগে একটি প্রি-অডিট পরিচালনা করবে। এতে সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আইকাওর নিরাপত্তা অডিটে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ছিল ৬৫ শতাংশ। এবার বেবিচকের লক্ষ্য ৭৫ শতাংশের বেশি স্কোর অর্জন। অন্যদিকে সর্বশেষ ডিএফটি অডিটে বাংলাদেশ কার্গো নিরাপত্তায় শতভাগ এবং যাত্রী নিরাপত্তায় প্রায় ৯৩ থেকে ৯৪ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, চলমান প্রস্তুতি, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির সংযোজন এবং উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক তদারকির ফলে আসন্ন ডিএফটি ও আইকাও অডিটে বাংলাদেশ আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে। এর মাধ্যমে দেশের বিমানবন্দরগুলোর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।