ইপোস্টের তমালের হিসাব জব্দ, ব্যাংকগুলোকে এনবিআরের চিঠি

লাইসেন্সবিহীন ডাক অধিদপ্তরের (বিপিও) সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদে গোপন চুক্তি করা প্রতিষ্ঠান ‘ইপোস্ট সফটওয়্যার লিমিটেড’-এর সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল ওয়াহেদ তমালের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
গত ১৮ মে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে তমালের নামে থাকা হিসাব জব্দ করতে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে চিঠি দেয় এনবিআর। চিঠিতে বলা হয়, ৯ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪০ টাকা কর বকেয়া রয়েছে তমালের। জব্দের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাবে এনবিআরে বকেয়া করের পরিমাণের সমান অর্থ গচ্ছিত থাকলে সেটিও রাজস্ব বোর্ডের কাছে জমা দিতে চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশের সফল তফসিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর দেওয়া এনবিআরের এই চিঠিতে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২২১ ধারা (যা সাবেক আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ১৪৩ ধারা) অনুযায়ী এই ক্রোক আদেশ জারি করা হয়েছে। সাধারণত কোনো করদাতা কর ফাঁকি দিলে কিংবা বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় বকেয়া কর পরিশোধ না করলে এনবিআর এই চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ নেয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, করদাতার নামে বা যৌথ নামে ব্যাংকের অধীনে যেকোনো শাখায় থাকা সব ধরনের চলতি, সঞ্চয়ী, মেয়াদি বা অন্য যেকোনো হিসাব অবিলম্বে অবরুদ্ধ করতে হবে। শুধু হিসাব জব্দই নয়, বর্তমানে তার অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা কিংবা পরবর্তীতে যেকোনো জমা থেকে এই বকেয়া করে কেটে সরাসরি কর অফিসে চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে আইনি বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তমালের বকেয়া করের পরিমাণ ৯ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪০ টাকা। অর্থাৎ এই পরিমাণ অর্থ তমাল-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যাংক হিসাবে থাকলে সেই অর্থ কর অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ এই আব্দুল ওয়াহেদ তমাল টানা ১০ বছর ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার সময় টানা তিনবার সভাপতি ছিলেন জুলাই হত্যা মামলার আসামি ও দীর্ঘদিন জেলে থাকা শমী কায়সার। ২০১৪ সাল থেকে পাঁচ মেয়াদে ই-ক্যাবে দখল ছিল তার। সে সময় ই-ক্যাবের একটি উদ্যোগ পরিচয়ে ‘ইপোস্ট সফটওয়্যার লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন তমাল। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নিজে হওয়ার পাশাপাশি সহধর্মিণী নুসরাত আখতারকে করেন শেয়ারহোল্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
পরে ২০২২ সালের নভেম্বরে ডাক অধিদপ্তরের সঙ্গে ইপোস্টের হয়ে একটি একপেশে চুক্তি করেন তমাল। সম্প্রতি এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এশিয়া পোস্ট।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হলে, দেশ ত্যাগ করেছিলেন তমাল। অবশ্য সম্প্রতি দেশে ফিরে আবার ব্যবসায় সক্রিয় হয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে ইপোস্টে থাকা নিজের ও তার সহধর্মিণীর শেয়ার বিক্রি করে নতুন একটি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন। সেই প্রতিষ্ঠানের আবার লন্ডন ও দুবাইয়ে অফিস রয়েছে।
তমাল-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে বিদেশে অবস্থান করায় কর ফাইল হালনাগাদ করতে পারেননি তমাল। এ জন্যই কর বকেয়া পড়েছে।





