রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কাটেনি দুর্ভোগ

রাঙামাটিতে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনও কাটেনি দুর্ভোগ। বুধবার (১৫ জুলাই) জেলায় বেশি প্লাবিত বাঘাইছড়ি পয়ত্রিশ গ্রাম ও বিলাইছড়ির ফারুয়ার ইউনিয়নের পানি নেমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট মেরামতে ব্যস্ত স্থানীয়রা।
জানা গেছে, জেলার সড়ক, কালভার্ট, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও পুকুর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শতশত বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার এখনও কাদাপানিতে বসবাস করছে। বাঘাইছড়ি উপজেলা সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কাদাপানির কারণে স্বাভাবিক হয়নি সড়ক যোগাযোগ।
অনেকে বাড়িঘর বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে যাওয়ায় একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিশাহারা বাসিন্দারা। শুধু ত্রাণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত পুনর্গঠনে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বন্যায় এত দিনেও দুর্গম এলাকাগুলোতে সরকারি ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকে। তবে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে পরিচালনা করছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি।
জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৪৮৩টি বসতঘর, ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১১৩ কিলোমিটার সড়ক, ২৫টি সেতু-কালভাট, প্রায় ৫ হাজার হেক্টর ফসল ও ফল বাগানের ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ১২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৭৫৯ আছেন। যার মধ্যে বাঘাইছড়িতেই ৫৭৯ জন। ১০টি উপজেলায় ২৯৫ টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যারা আশ্রয়কেন্দ্র অবস্থান করছেন তাদের তিন বেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলায় এখন পর্যন্ত ১৩৫টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করতে তাদের আরও কিছু দিন সময় লাগবে।





