প্রশাসনের দেওয়া খাবার ক্যাফেটেরিয়ায় বসে খেতে বাধা, অভিযোগ নবীন শিক্ষার্থীদের

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে দেওয়া দুপুরের খাবার নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ায় প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনেই এমন ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েন নবীন শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা। তবে বিষয়টিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন ক্যাফেটেরিয়া পরিচালক।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবীন শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার দেওয়া হয়। পরে সেই খাবারের প্যাকেট নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ায় প্রবেশ করতে গেলে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় তাদের বলা হয়, ক্যাফেটেরিয়ায় বাইরের খাবার নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে যবিপ্রবির বিবিএ অনুষদের শিক্ষার্থী মুজাহিদ ইফু বলেন, জাস্টের ক্যাফেটেরিয়া যেন জাস্টের জাদুঘর। আজ সবচেয়ে জুনিয়র ব্যাচ এসেছে, অথচ তাদের ভেতরে বসে খাবার খেতে দেওয়া হয়নি। তাদের বলা যেত, খাবার খাওয়ার পর প্যাকেটগুলো যথাস্থানে রাখতে। কিন্তু গেট থেকেই তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি নিজে দেখেছি, ক্যাফেটেরিয়ার দায়িত্বে থাকা মামুন ভাই তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন। আমার প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়টা কাদের? ক্যাফেটেরিয়াটা কাদের? খাবার দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই খাবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় বসে খেতে পারবে না; এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা।
ভুক্তভোগী নবীন শিক্ষার্থীরা জানান, ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে দেওয়া খাবার নিয়ে আমরা ক্যাফেটেরিয়ায় বসে খেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রবেশের সময় ক্যাফেটেরিয়ার গেট থেকে একজন আমাদের বলেন, ‘এখানে বাইরের খাবার অনুমতি নেই।’ এরপর আমাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রথম দিনেই এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে, তা ভাবিনি। বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই খারাপ লেগেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় নিজেদের ক্যাফেটেরিয়ায় নিজেরাই বসে খেতে পারব না— এটা প্রথম শুনলাম।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রাহিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, আমার মনে হয়, এখানে প্রশাসনের সবচেয়ে বড়ো ভুল রয়েছে। ক্যাফেটেরিয়ায় অবশ্যই বসে খেতে দেওয়া উচিত, কারণ এটি সবার জন্য। তবে ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনাকারীর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। তিনিও ব্যবসা করবেন। যদি মূল সময়ে সবাই ক্যাফেটেরিয়ার টেবিল দখল করে রাখে, তাহলে ক্যাফেতে প্রস্তুত করা খাবারগুলো কারা খাবেন? তিনি আরও লেখেন, প্রশাসনের উচিত ছিল, যারা প্যাকেটের খাবার নিয়ে গিয়েছিল, তাদের জন্য ক্যাফেটেরিয়ার ওপর তলায় আলাদা ব্যবস্থা করে দেওয়া।
অভিযোগের বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়া পরিচালক মামুন এশিয়া পোস্টকে বলেন, শিক্ষার্থীদের খাবার গ্রহণে কখনোই কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। অনেকেই এখানে বসে খাবার খেয়েছেন। ক্যাফেটেরিয়ায় অতিরিক্ত ভিড় এড়াতেই শুধু ওপরের তলা বা বাইরের স্থানে বসার অনুরোধ করা হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝি।
এ বিষয়ে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় যে কেউ বাইরে থেকে খাবার নিয়ে বসে খেতে পারে। এতে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। ওরিয়েন্টেশনের পর নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যাফেটেরিয়ায় ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি বিষয়টি ইতোমধ্যে জেনেছি। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।






