নির্জনা হত্যার রহস্য উদঘাটন, নেপথ্যে যে কারণ

খুলনা নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যা মামলার মূল রহস্য ও নেপথ্যের কারণ উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। মেয়ের একাধিক প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে মা-বাবা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক ছায়া তদন্ত শুরু করে। পিবিআই ও সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিকটিমের ছবি প্রচার করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় গত ১০ জুলাই খুলনা সদর থানার পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। নির্জনা সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের একপর্যায়ে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে পুলিশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

কেএমপি কমিশনার জানান, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ১০ জুলাই ঘাতক মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করার পর শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে নির্জনার মা দাবি করেন, নির্জনা অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন এক বিবাহিত ছেলের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেছিল। বর্তমানে রনি নামে আরেক ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সে তিন দিন বাড়ির বাইরে ছিল। আর এটি নিয়েই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার রাতে মা ও মেয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সিমা মেয়েকে মারধর করেন। পরে পাশের কক্ষ থেকে বাবা আকাশ একটি কাঠের বাতা এনে আঘাত করলে সেটি নির্জনার মাথায় লাগে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়।
পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিষয় বা আর কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যান্ড প্রটোকল) মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস-ভারপ্রাপ্ত) এম. এম. শাকিলুজ্জামান, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন, সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এবং খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।





