আলজাজিরার বিশ্লেষণ/গাজা নিয়ে ক্ষমা চাইলেন বার্নহ্যাম, পাল্টে যাবে কি ব্রিটেনের নীতি?

যশরাজ শর্মা
গাজা নিয়ে ক্ষমা চাইলেন বার্নহ্যাম, পাল্টে যাবে কি ব্রিটেনের নীতি?
যুক্তরাজ্যের পরবর্তী সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের পরবর্তী সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এক ভিডিও বার্তায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। গাজায় ইসরায়েলের চালানো যুদ্ধ নিয়ে নিজের দল লেবার পার্টির অবস্থানের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি ইসরায়েলের ওপর চাপ আরও বাড়াবেন।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র। গত জুন মাসে মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে জিতে তিনি আবার পার্লামেন্টে ফিরেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গাজা যুদ্ধ নিয়ে তার দল লেবার পার্টি আগে ‘সঠিক পথে ছিল না’। দলটির নেতৃত্ব পাওয়ার পর এ বিষয়ে ‘আরও ভালো’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

মে মাসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তা ব্যাপক কমে যায়। এরপর তিনি পদত্যাগ করলে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ছাড়া আর কেউ এই পদের জন্য প্রার্থী হননি। ফলে চলতি মাসের শেষ নাগাদ তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বার্নহ্যাম গাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর টানা দুই বছরের বোমা হামলায় গাজার মানুষের ‘অসহনীয় দুর্ভোগ’ আমাদের ‘সামষ্টিক বিবেকের ওপর একটি ক্ষত’ হয়ে আছে। তবে তিনি ইসরায়েলের এই হামলাকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ বলতে রাজি হননি।

কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি শুরু থেকেই ইসরায়েলকে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছিল। গত বছর তারা ‘ফিলিস্তিন অ্যাকশন’ নামের একটি অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করেছিল। এমনকি ইসরায়েলে সব ধরনের অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। বার্নহ্যাম ক্ষমতায় এলে এই অবস্থানে পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।

বার্নহ্যাম জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পরও মারা গেছেন এক হাজারের বেশি মানুষ। তিনি বলেন, গাজায় এখনও মানবিক সংকট চলছে এবং ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে খুব সামান্য। ইসরায়েলি বাহিনী ক্রমাগত গাজার নতুন নতুন এলাকা দখল করছে। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগে আমাদের আরও অনেক কিছু করতে হবে।’

নিজের বক্তব্যে বার্নহ্যাম ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর সময় আমার দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। আমি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাজ্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে অনেক দেরি করে ফেলেছে। আমাদের সাড়াদান যথেষ্ঠ ভালো ছিল না। আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।’

ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করেন ৫৬ বছর বয়সি এই নেতা। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু সরকার বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও অবৈধ বসতি স্থাপন বাড়ছে। বার্নহ্যামের মতে, ‘নেতানিয়াহু সরকার স্পষ্টতই দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান অসম্ভব করে তোলার চেষ্টা করছে।’

শেষ দিকে বার্নহ্যাম বলেন, তিনি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় রাখতে তিনি কাজ করবেন। তিনি মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনই শান্তির একমাত্র পথ। সেই লক্ষ্য অর্জনে তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে উত্তাল ব্রিটেন: জনমতের চাপে লেবার পার্টি

যুক্তরাজ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। দেশটির অনেক মানুষ মনে করছেন, গাজায় গণহত্যা এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা বন্ধে ব্রিটিশ সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। কাউন্সিল ফর আরব-ব্রিটিশ আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের (সিএএবিইউ) করা একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেক ব্রিটিশ নাগরিক মনে করেন ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন। আর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট মতামত জানাননি।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থানের কারণে বাম ও প্রগতিশীল ভোটারদের বড় একটি অংশের সমর্থন হারিয়েছে লেবার পার্টি। গত মাসের একটি জরিপ বলছে, যারা লেবার পার্টি ছেড়ে গ্রিন পার্টিতে যোগ দিয়েছেন, তাদের দুই-তৃতীয়াংশই মূলত গাজা ইস্যুতে দলের ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন।

লেবার সরকারের সাবেক নীতি উপদেষ্টা প্যাট্রিক ডায়মন্ড আলজাজিরাকে বলেন, অ্যান্ডি বার্নহ্যামের এই বক্তব্য মূলত ওই সব ভোটারদের শান্ত করার একটি চেষ্টা, যারা গাজা ইস্যুতে দল ছেড়েছেন। তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এই বিষয়টি নির্বাচনে লেবার পার্টির ক্ষতি করেছে। তবে এর ফলে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা দেখার বিষয়।’

গাজা নিয়ে লেবার পার্টির অবস্থান আসলে কী?

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর লেবার পার্টির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল—ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। তবে গাজা যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়েছে, এই অবস্থান থেকে সরতে তারা তত দেরি করেছে বলে অনেকে মনে করেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনে বিশাল জয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে কিয়ার স্টারমার গাজা যুদ্ধ নিয়ে এক বিতর্কিত সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। এলবিসি-র নিক ফেরারিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তখন বিরোধী দলে থাকা স্টারমার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিদ্যুৎ ও পানি বন্ধ করে দেওয়ার ‘অধিকার’ ইসরায়েলের আছে।

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘অবশ্যই সবকিছু আন্তর্জাতিক আইন মেনে করা উচিত। তবে আমি এই মৌলিক নীতি থেকে সরতে চাই না যে, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে।’ তার এই মন্তব্যে লেবার পার্টির ভেতরেই তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

তবে স্টারমারের মুখপাত্রের কাছ থেকে এই বক্তব্যের স্পষ্টীকরণ আসতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, অর্থাৎ গাজায় ইসরায়েলি বোমা হামলা শুরু হওয়ার অনেক মাস পর লেবার পার্টি প্রথমবারের মতো অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়।

অতীতে জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে লেবার পার্টি যখন ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করত, তখন তাদের বারবার আক্রমণের শিকার হতে হতো। করবিনের আমলে দলটির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের (অ্যান্টি-সেমিটিজম) অভিযোগ উঠেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সেই ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে স্টারমার ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেন। কিন্তু এই ইস্যুটিকে গাজার গণহত্যার চেয়ে আলাদা করতে গিয়ে তিনি বেশ হিমশিম খেয়েছেন।

তবে পরে স্টারমারের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন আসে। যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু গত বছর যুক্তরাজ্য সরকার ‘ফিলিস্তিন অ্যাকশন’ সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করে।

তারা সংগঠনটিকে আইএস বা আল-কায়েদার মতো হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। এর ফলে অভিযোগ উঠেছে যে, যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থিদের আলোচনা বা আন্দোলনকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সংগঠনটি নিষিদ্ধ করার পর এ পর্যন্ত ৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য এখনও ইসরায়েলের কাছে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ বিক্রি করছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে স্টারমার সরকার মাত্র ২৯টি অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স স্থগিত করে। অথচ ৩৫০টির মতো লাইসেন্স এখনও কার্যকর রয়েছে।

আলজাজিরার এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিমানের যন্ত্রাংশ বাদেও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে পাঠানো হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার মূল্যের অন্তত ২৮টি চালান ইসরায়েলে পৌঁছেছে। এর মধ্যে বড় চালানগুলো পৌঁছেছে বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বানের ঠিক পরেই।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অক্সফামের একটি প্রতিবেদন বলছে, ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের কাছে অন্তত ৬৭ কোটি ১০ লাখ ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। তবে এর প্রকৃত পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে।

অক্সফামের মতে, যুক্তরাজ্য মূলত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ১৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে। এর মধ্যে রয়েছে ইজেক্টর সিট, টার্গেটিং সিস্টেম এবং ফিউজেলেজ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ সরকার অবশেষে স্বীকার করে যে, যুক্তরাজ্যের অস্ত্র গাজায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এরপরই তারা সরাসরি অস্ত্র বিক্রিতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে।

অক্সফাম বলেছে, ৩৬০টির বেশি লাইসেন্সের মধ্যে মাত্র কয়েকটির স্থগিতাদেশ যথেষ্ট নয়। ব্রিটিশ সরকার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে একটি ‘ফাঁক’ রেখে দিয়েছে। সরকারের যুক্তি হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে ইসরায়েলকে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে যাবে।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম শুরু থেকেই গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে কথা বলে আসছেন। তিনি এ ক্ষেত্রে লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে আছেন। নিজের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে তিনি অস্ত্র বিক্রিতে আরও কড়া বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যাতে ব্রিটিশ কোনো বোমা বা বুলেট ইসরায়েলি বাহিনী গাজা বা পশ্চিম তীরে ব্যবহার করতে না পারে।’

লেবার পার্টির সাবেক নীতি উপদেষ্টা প্যাট্রিক ডায়মন্ড আলজাজিরাকে বলেন, ‘স্টারমার শুরুতে বিষয়টি ঠিকমতো সামলাতে পারেননি। এতে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে মনে হয়েছে যে, স্টারমার গাজার মানুষের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল নন।’

লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টিম বেল বলেন, বার্নহ্যাম এখন ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। তবে তার এই বক্তব্য হয়তো কাজের চেয়ে বেশি ‘প্রতীকী’। ইসরায়েলকে নিয়ে ব্রিটেনের যতটুকু করার বা বলার ছিল, তারা সম্ভবত তার শেষ সীমানায় পৌঁছে গেছে।

টিম বেল আরও বলেন, লেবার পার্টি কেবলই ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে। বার্নহ্যাম বুঝতে পারছেন, স্টারমারের শুরুর দিকের অবস্থানের কারণে মুসলিম ও প্রগতিশীল ভোটাররা দলের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তাই বার্নহ্যাম এখন নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনা করছেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এতে যেন ইসরায়েলের অধিকারের প্রতি ব্রিটেনের ঐতিহাসিক অঙ্গীকার দুর্বল না হয়। পাশাপাশি ইসরায়েলপন্থী মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চিন্তাও তার মাথায় আছে।

বার্নহ্যাম তার ‘চিফ অব স্টাফ’ হিসেবে সাবেক মন্ত্রী জেমস পার্নেলকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলেছেন। পার্নেল এর আগে ‘লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েল’ সংগঠনকে সমর্থন দিয়েছিলেন। চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক ইয়োসি মেকলবার্গ মনে করেন, বার্নহ্যামের এই মন্তব্য রাজনৈতিক কৌশলের চেয়ে নৈতিক বোধ থেকে আসতে পারে। তবে তার মতে, আসন্ন নির্বাচনে গাজা ইস্যুর চেয়ে মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অভিবাসন নিয়ে ভোটাররা বেশি চিন্তিত।

যুক্তরাজ্য ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলের অন্যতম শক্তিশালী মিত্র। তবে ২০২৪ সালের শুরুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দেওয়ার পর থেকে লন্ডনের অবস্থানে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ‘ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’-এর গবেষক তাহানি মোস্তফা বলেন, বার্নহ্যামের স্বীকারোক্তি ও সহানুভূতি অবশ্যই একটি সঠিক পদক্ষেপ। এটি ব্রিটেনের ভুল পররাষ্ট্রনীতি সংশোধনের ইঙ্গিত দেয়।

তবে তাহানি মোস্তফা ‘সতর্কভাবে আশাবাদী’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এগুলো নির্বাচনের আগে কেবল ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হতে পারে। বার্নহ্যাম গাজা যুদ্ধকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ বলতে এড়িয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনার দায় এড়াতে তিনি এটি করে থাকতে পারেন। তবে তাহানি মোস্তফার মতে, বার্নহ্যাম যদি সত্যিই ইসরায়েলের বিচার নিশ্চিত করতে শক্ত অবস্থান নেন, তবে অন্য দেশগুলোও তাকে অনুসরণ করবে।


লেখক পরিচিতি

যশরাজ শর্মা আলজাজিরার একজন প্রতিবেদক। তিনি ভারতের নয়াদিল্লি থেকে কাজ করেন। আলজাজিরার দক্ষিণ এশিয়া ডেস্কে তিনি সংবাদ, ফিচার ও বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন লিখে থাকেন। মানবাধিকার, কাশ্মীর সংঘাত এবং ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থান তার কাজের প্রধান ক্ষেত্র। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যু নিয়েও তিনি প্রতিবেদন তৈরি করেন।