জন্মদিনে পূর্ণিমাকে স্বামীর আবেগঘন শুভেচ্ছা

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
জন্মদিনে পূর্ণিমাকে স্বামীর আবেগঘন শুভেচ্ছা
স্বামী ও মেয়ের সঙ্গে পূর্ণিমা। ছবি: সংগৃহীত

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রুপালি পর্দায় সমানভাবে মুগ্ধতা ছড়িয়ে চলেছেন তিনি। বয়স বাড়লেও সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর তারুণ্যদীপ্ত উপস্থিতিতে আজও দর্শকদের বিস্মিত করেন। বলছি ঢালিউডের চিরসবুজ ও লাস্যময়ী অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমার কথা।

শনিবার (১১ জুলাই) এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সেই হিসেবে আজ ৪৫ বছরে পা রাখলেন (৪৪ বছর পূর্ণ করলেন) পূর্ণিমা।

বিশেষ এই দিনে স্বামীর আবেগঘন শুভেচ্ছাবার্তা পেয়েছেন পূর্ণিমা। ফেসবুকে পূর্ণিমার ছবি প্রকাশ করে আশফাকুর রহমান রবিন লিখেছেন, শুভ জন্মদিন, আমার প্রিয় বউ দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। তোমার ভালোবাসা, যত্ন আর অফুরন্ত সমর্থন আমার জীবনকে আরও আলোকিত করে। আমরা একসঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তোমার এই বিশেষ দিনটি যেন আনন্দ, হাসি আর তোমার প্রিয় সবকিছু দিয়ে ভরে ওঠে। সবসময় ভালোবাসি। শুভ জন্মদিন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসের সঙ্গে কয়েকটি পারিবারিক ছবি শেয়ার করেছেন রবিন। এর মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যায়, রবিন ও পূর্ণিমা আর্জেন্টিনার জার্সি পরে রয়েছেন, তাদের মাঝখানে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে কন্যা আরশিয়া উমাইজা। ব্যতিক্রমী এই পারিবারিক মুহূর্তটি নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু হয় তার। ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমায় রিয়াজের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে অভিষেক ঘটে। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

প্রায় ২৮ বছরের অভিনয়জীবনে প্রায় ৮০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন পূর্ণিমা। তবে ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ‘মনের মাঝে তুমি’ সিনেমা তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৫টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন রিয়াজের সঙ্গে। এ ছাড়া মান্না, শাকিব খান, ফেরদৌস, আমিন খান, রুবেল, কাজী মারুফ ও আরিফিন শুভসহ দেশের প্রায় সব শীর্ষ নায়কের বিপরীতেই দেখা গেছে তাকে।

শুধু বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রেই নয়, সাহিত্যনির্ভর সিনেমাতেও নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন পূর্ণিমা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সুভা’ ও ‘শাস্তি’, এবং রাবেয়া খাতুনের ‘মেঘের পরে মেঘ’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপক হিসেবেও সফল তিনি। ছোট পর্দায়ও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। জাহিদ হাসান পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক ‘লাল নীল বেগুনী’-তে অভিনয় করেও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথচলায় সময় বদলেছে, বদলেছে চলচ্চিত্রের ধারা। তবে পূর্ণিমার জনপ্রিয়তা কিংবা আবেদন কমেনি এতটুকুও। বরং সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে এখনও দর্শকদের হৃদয়ে একইরকম ভালোবাসার জায়গা ধরে রেখেছেন এই চিরসবুজ নায়িকা।