মিডল ইস্ট আইয়ের কলাম/নতুন প্রজন্মের ‘ডেয়ারডেভিল’ জোহরান মামদানি?

আমার মতো মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের অন্ধ ভক্ত না হলে উইলসন ফিস্ক বা কিংপিনের সঙ্গে আপনার পরিচয় থাকার কথা নয়। সে এক চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ও নির্মম খলনায়ক। তার উচ্চাভিলাষী অপরাধজগতের জাল তাকে শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্ক শহরের মেয়রের চেয়ার পর্যন্ত নিয়ে যায়।
ফিস্কের নিউইয়র্কের মেয়র হওয়ার ঘটনাকে অনেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থানের সঙ্গে তুলনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের আগাগোড়া দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিতে এমন ঘটনা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। অন্তত গল্পের জগতেও তা-ই। ফিস্কের এই উত্থানকে ঠেকানোর মতো সক্ষমতা ছিল কেবল অন্ধ এক আইনজীবী ম্যাট মারডক বা ‘ডেয়ারডেভিল’-এর।
শৈশবে এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারায় ডেয়ারডেভিল। তবে সে পেয়ে যায় সুপারহিরোর ক্ষমতা। ফিস্কের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে মার্ভেল ভক্তদের প্রজন্মের পর প্রজন্মের মরিয়া আকাঙ্ক্ষাকেই ধারণ করে সে।
এরপর দৃশ্যপটে এলেন জোহরান মামদানি। তিনি নিউইয়র্কের আসল মেয়র। তার ক্ষমতায় আসার ব্যাপারটি কেবল মারডকের সুপারহিরো হওয়ার ওই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেই কল্পনা করা যেতে পারে।
মারডকের নৈতিক সাহস ও অটুট বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায় মামদানির মধ্যে। সেই বিশ্বাস এখন নিউইয়র্কের মেয়রের আসল ক্ষমতায় রূপান্তরিত হয়েছে। তবে দুজনের মধ্যে ছোট একটি পার্থক্য আছে। মারডক ক্যাথলিক খ্রিস্টান। আর মামদানি শিয়া মুসলিম।
মামদানির মধ্যে ফিস্ক ও মারডকের সেই চরম দ্বৈত সত্তা যেন এক বিন্দুতে এসে মিলেছে। তিনি এখন এমন এক মেয়র, যাকে মানুষ ভীষণ ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। অন্যদিকে তার ভয়ে রীতিমতো কাঁপছে গণহত্যাকারী জায়নবাদীরা এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকেরা।
কিংমেকারের সঙ্গে পরিচয়
সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের একটি শিরোনামে একই সঙ্গে আতঙ্ক ও ছাড় দেওয়ার বিষয়টি ফুটে ওঠে। শিরোনামটি ছিল, ‘কিংমেকার হিসেবে আবির্ভূত মামদানি, প্রাইমারিতে নিজ দলের প্রার্থীদের বিশাল জয় এনে দিচ্ছেন’।
এই ঘুরিয়ে করা প্রশংসার পেছনে একটি নীরব সত্য লুকিয়ে ছিল। সেটি হলো, গণহত্যাকারী জায়নবাদীরা যে শহরকে নিজেদের ভেবেছিল, সেখানে তারা এখন নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। শহরটি তাদের নয়, আর কখনো তাদের ছিলও না।
নিউইয়র্ক টাইমস নামটাই আসলে ভুল। এর নাম হওয়া উচিত ‘তেল আবিব টাইমস’। এতে নামের ছন্দটা বেশ ভালো মেলে।
নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তিনজন প্রগতিশীল প্রার্থীকে জিতিয়ে এনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মূল ধারাকে রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি।’
এটি একদম খাঁটি সত্য। ব্র্যাড ল্যান্ডার, ক্লেয়ার ভালদেজ ও ডারিয়ালিসা আভিলা শ্যাভালিয়ার—এই তিনজন হলেন সেই পরিবর্তনের চূড়া। তারা নিউইয়র্ক টাইমস ও এর পাঠকদের চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছেন।
গত সপ্তাহে প্রাইমারিতে এই তিন সাহসী ও লড়াকু প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার গভীরে শেকড় গাড়া প্রতিপক্ষকে হারিয়েছেন তারা।
বিজয়ের পর তাদের উল্লাসের স্লোগান ছিল ‘ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বা ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন’। এর ফাঁকে ফাঁকে ‘ডিএসএ’ (ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা) বলেও স্লোগান দেন তারা। নিউইয়র্ক যে স্পষ্টভাবে পাল্টাচ্ছে, তা বোঝাই যায়। আর এর সঙ্গে হয়তো পাল্টাতে যাচ্ছে পুরো দেশটাই।
মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মামদানি কী কী করেছেন, একটু ভাবুন। মে মাসের শেষ দিকে তিনি নিউইয়র্কে ফ্যাসিবাদী ‘ইসরায়েল ডে প্যারেড’ বর্জন করার সাহস দেখান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলের চরম ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। এই স্মোট্রিচ আবার ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের ঘোর সমর্থক।
এরপর ১৮ জুন এক ভাষণে মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ ইসরায়েলপন্থি লবিং গ্রুপ আইপ্যাককে ‘কালোটাকা’ নিয়ে কারবার করা ‘দানব’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। এর কয়েক দিন পরই তার নেতৃত্বে ডেমোক্রেটিক দলের তিন কট্টর জায়নবাদবিরোধী প্রার্থী প্রাইমারিতে বিশাল জয় পান। এটি এক বিশাল পরিবর্তন।
জাতীয় পর্যায়ে কি কোনো পরিবর্তন আসছে?
এই নতুন বিজয়ের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে ইহুদি, খ্রিষ্টান, মুসলিম, আফ্রিকান-আমেরিকান ও আরবদের এক বহুমাত্রিক জোট। আপনি যে সম্প্রদায়ের নামই বলুন না কেন, তারা সেখানে আছেন। তাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার কেন্দ্রে রয়েছে ফিলিস্তিন ইস্যু। ফিলিস্তিনের জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম অবশেষে এই দেশে একটি শক্ত ভিত্তি খুঁজে পেয়েছে।
মামদানি পরিষ্কারভাবে ও প্রকাশ্যে একটি কথা বলেন। বারাক ওবামার মতো কোনো ঘোরপ্যাঁচ তিনি করেন না। তিনি বলেন, তিনি এমন কোনো রাষ্ট্রে বিশ্বাস করেন না, যা অন্য ধর্মের ওপর কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে বিশেষ সুবিধা দেয়। সেটি ইহুদি, ইসলামি বা খ্রিষ্টান—যে কোনো রাষ্ট্রই হোক না কেন।
গণহত্যাকারী জায়নবাদীরা রাগে দাঁত কিড়মিড় করে আর গজগজ করে। কিন্তু পৃথিবী তার নিজস্ব গতিতেই চলতে থাকে। আলোচনার মোড় এখন ঘুরে গেছে। মামদানির সমর্থন পাওয়া প্রার্থীরা সব ঝড় সামলে মার্কিন কংগ্রেসে যাওয়ার পথে ভালোভাবেই এগিয়ে আছেন।
এই অভূতপূর্ব প্রগতিশীল উত্থানের কেন্দ্রে ফিলিস্তিন ইস্যু রয়েছে ঠিকই। তবে মনে রাখতে হবে, এই মহান উদ্দেশ্য আরও বড় একটি কর্মসূচির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। সেই কর্মসূচি শ্রমজীবী মানুষের তৃণমূল স্তরের সমস্যাগুলো সমাধান করে। পাশাপাশি শহরের বিপুল বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যাকে ক্ষমতায়িত করে।
গণহত্যাকারী জায়নবাদীদের প্রচারণায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফিলিস্তিনিবিরোধী বর্ণবাদ তৈরি করা হয়েছিল। তার বিপরীতে গিয়ে ফিলিস্তিনিরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির যৌথ রাজনৈতিক চেতনায় জায়গা করে নিয়েছেন।
ইসরায়েলপন্থি ডেমোক্র্যাটদের জন্য এখন মূল প্রশ্ন একটিই। দুর্নীতি ও কাপুরুষতার বিরুদ্ধে এই গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থান কি কেবল নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়বে?
মিশিগানে বর্তমানে সিনেটের প্রাইমারি লড়াই চলছে। সেখানে আইপ্যাক–সমর্থিত প্রার্থী হ্যালি স্টিভেনস লড়ছেন। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘ইসরায়েল আমার স্বপ্নে আসে’।
তার প্রতিপক্ষ আবদুল এল-সায়িদ একজন চিকিৎসক। তিনি সবার জন্য চিকিৎসাসেবা, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বিলুপ্ত করা এবং ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।
মূলধারার ডেমোক্র্যাটরা (যাদের অনেকেই আইপ্যাকের টাকায় কেনা) এই লড়াই নিয়েও বেশ নার্ভাস। নিউইয়র্ক টাইমসও একই রকম অস্বস্তিতে আছে। পত্রিকাটির কলামিস্ট মিশেল গোল্ডবার্গ লিখেছেন, ‘এই লড়াই দেখে মূলধারার ডেমোক্র্যাটরা উদ্বিগ্ন হবেন, এটাই স্বাভাবিক। আমি নিজেও চিন্তিত।’
কাজের প্রমাণ
গণহত্যাকারী জায়নবাদ মার্কিনিদের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। দৃশ্যটি আসলেই স্নায়ুচাপ বাড়ানোর মতো। মিশিগান লড়াই নিয়ে গোল্ডবার্গ যখন নিজের উদ্বেগ সামলে উঠছিলেন, তখনই নতুন খবর এলো। কলোরাডোর মূলধারার ডেমোক্র্যাটদেরও একই ধরনের মাথাব্যথা শুরু হয়েছে।
সেখানে ডেনভার এলাকার প্রাইমারিতে ২৯ বছর বয়সী গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী মেলাত কিরোস বড় ব্যবধানে ডায়ানা ডিগেটকে হারিয়ে দিয়েছেন। এই ডিগেট হলেন আইপ্যাকের আরেকজন মুখপাত্র।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, কিরোস তার প্রচারণার আত্মজীবনীতে একটি বিষয় বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি আগে ম্যানহাটনের একটি ল ফার্মে কাজ করতেন। ইসরায়েলের ঐতিহাসিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি চিঠি তিনি সরাতে অস্বীকৃতি জানান।
ফিলিস্তিনপন্থি ক্যাম্পাস আন্দোলনকারীদের তিনি সমর্থন করেছিলেন। অ্যাক্টিভিস্ট আইনের শিক্ষার্থীদের প্রতি ফার্মের আচরণেরও প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। এসব কারণে ২০২৩ সালে ওই ল ফার্ম তাকে বরখাস্ত করেছিল।
তাহলে এখন কী হবে? নিউইয়র্ক অতিরিক্ত ‘কমিউনিস্ট’, মিশিগান বড্ড বেশি আরব। আর কলোরাডো? ওটা কি খুব বেশি পাহাড়ি?
বিষয়টি মানুষের প্রকৃত চাহিদা ও দাবির প্রেক্ষাপটেই দেখতে হবে। মামদানির গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র প্রকল্পের আসল প্রমাণ তার কাজের মধ্যেই রয়েছে। মাত্র কয়েক মাস দায়িত্বে থেকেই এই মেয়র শ্রমিক শ্রেণি ও ভাড়াটেদের জন্য নিরলস লড়াই করেছেন।
সবার জন্য শিশুযত্ন কর্মসূচিতে ১২০ কোটি ডলারের রাষ্ট্রীয় তহবিল নিশ্চিত করেছেন। শ্রমিক ও ছোট ব্যবসার ক্ষতিপূরণ বাবদ ৯০ লাখ ডলারের বেশি আদায় করেছেন। ভাড়াটেদের জন্য ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের একটি মীমাংসা আদায় করেছেন। এসব কিছু করার পরও তিনি শহরের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতি দূর করেছেন।
গাজা গণহত্যা ও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের বিষয়ে এলে মামদানি এবং তার সমর্থিত প্রার্থীরা বিষয়টিকে নতুন মার্কিন রাজনীতির বুননে চমৎকারভাবে গেঁথে নিচ্ছেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পক্ষের লোকেরা এই রাজনীতিকে এতই দুর্বল ভেবেছিলেন যে, তারা একে পাত্তা দেওয়ারও প্রয়োজন মনে করেননি। তবে তাদের সেই ধারণা পুরোপুরি ভুল ছিল।
মামদানি যা করছেন, তার গুরুত্ব বুঝতে হলে কেবল তার পূর্বসূরি এরিক অ্যাডামসের সঙ্গে তাকে তুলনা করলেই চলবে। অ্যাডামস চরম অপমানের মধ্য দিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপরই তিনি ছুটে যান ইসরায়েলে। সেখানে গিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, ‘মেয়র হিসেবে আমি আপনাদেরই সেবা করেছি।’
ডেয়ারডেভিলের ন্যায়-অন্যায়ের অবিচল বোধের একটি মূল দিক হলো তার ধর্মীয় বিশ্বাস। একজন নিষ্ঠাবান ক্যাথলিক হিসেবে, আইন নিজের হাতে তুলে নিলেও সে তার পথে আসা খারাপ লোকদের মেরে ফেলে না। সে কেবল তাদের আচ্ছামতো পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠায়, যেন তারা নিজেদের কাজের জন্য অনুশোচনা করার সুযোগ পায়।
এই বৈশিষ্ট্যটি তাকে ফ্র্যাংক ক্যাসল বা ‘পানিশার’-এর চেয়ে আলাদা করেছে। কারণ খারাপ লোকদের মেরে ফেলতে পানিশারের কোনো দ্বিধা নেই। এ বিষয়টি নিয়ে তাদের মতবিরোধ মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের অন্যতম শক্তিশালী তাত্ত্বিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আজ আমাদের নিজেদের নৈতিক জগৎও ন্যায়-অন্যায়ের বোধ নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছে। আমাদের উচিত ডেয়ারডেভিল মেয়র মামদানির ওপর নজর রাখা। এই শহরের, আর সেই সঙ্গে হয়তো পুরো দেশের নৈতিক কাঠামো বদলে দেওয়ার চেষ্টায় তার সাফল্যের জন্য আমাদের প্রার্থনা করতে হবে।
লেখক পরিচিতি
হামিদ দাবাশি নিউইয়র্ক শহরের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইরানি স্টাডিজ ও তুলনামূলক সাহিত্যের ‘হাগোপ কেভোর্কিয়ান প্রফেসর’ হিসেবে কর্মরত; সেখানে তিনি তুলনামূলক সাহিত্য, বিশ্ব চলচ্চিত্র এবং উত্তর-ঔপনিবেশিক তত্ত্ব বিষয়ে পাঠদান করেন। তার সাম্প্রতিক বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আফটার স্যাভেজারি: গাজা, জেনোসাইড, অ্যান্ড দ্য ইলিউশন অফ ওয়েস্টার্ন সিভিলাইজেশন’ (২০২৫)।
আরও রয়েছে ‘ইরান ইন রিভল্ট: রেভল্যুশনারি অ্যাসপিরেশনস ইন আ পোস্ট-ডেমোক্রেটিক ওয়ার্ল্ড’ (২০২৫); ‘দ্য পার্সিয়ান প্রিন্স: দ্য রাইজ অ্যান্ড রিসারেকশন অফ অ্যান ইম্পেরিয়াল আর্কিটাইপ’ (২০২৩); ‘দ্য ফিউচার অফ টু ইলিউশনস: ইসলাম আফটার দ্য ওয়েস্ট’ (২০২২); এবং ‘রিভার্সিং দ্য কলোনিয়াল গেজ: পার্সিয়ান ট্রাভেলার্স অ্যাব্রড’ (২০২০)। তার লেখা বই ও প্রবন্ধ বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।






