Advertisement

স্যান্ডেলের সূত্র ধরে হত্যার রহস্য উন্মোচন, পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, খুলনা
স্যান্ডেলের সূত্র ধরে হত্যার রহস্য উন্মোচন, পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শামীম শেখ ও তার শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

খুলনার দিঘলিয়ায় ১৪ বছর আগে সংঘটিত বৃদ্ধা রাশিদা বেগম হত্যা ও লুটপাট মামলায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন দিঘলিয়া দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মুনসুর আলীর স্ত্রী মোছা. আনোয়ারা বেগম, তার ছেলে মো. ইসমাইল শেখ ওরফে বাবু, জামাতা শামীম শেখ, মহেশ্বরপাশা এলাকার সাহেবের বাড়ির ভাড়াটিয়া নজরুল ইসলাম মুন্সির ছেলে রাজু ওরফে রাজু মুন্সি এবং তেরখাদা উপজেলার দেয়াড়া উত্তরপাড়া এলাকার শের আলীর ছেলে ইলিয়াস শেখ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ টি এম মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি স্যান্ডেলের সূত্র ধরেই মামলার তদন্তে অগ্রগতি আসে। প্রথমে শামীম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, তদন্তে জানা যায় শামীম রাশিদা বেগমের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন এবং বাড়ির বিভিন্ন তথ্য আসামিদের কাছে পৌঁছে দিতেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামিরা বাড়িতে প্রবেশ করে রাশিদা বেগমকে হত্যা করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। পরে শামীমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শামীম শেখ ও তার শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য তিন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে তেরখাদা উপজেলার দেয়াড়া উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাসিরুজ্জামান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাইরে যান। বাড়িতে ছিলেন তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়ে ও বৃদ্ধা মা রাশিদা বেগম। এ সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরের একটি দল বাড়িতে ঢুকে পড়ে। উপস্থিতি টের পেয়ে তারা রাশিদা বেগমের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে ঘর থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।

সেদিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভারী বৃষ্টির কারণে নাসিরুজ্জামান বাড়ি ফিরতে দেরি করেন। বাড়িতে ফিরে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের নিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে খাটের নিচ থেকে তার মায়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ২০ জুলাই তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে দিঘলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১২ মার্চ দিঘলিয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিষয় :খুলনা