উত্তরের পথে এবারের ঈদযাত্রা হতে পারে যানজটমুক্ত

উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য স্বস্তির খবর–হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের বগুড়া-রংপুরগামী লেনে যাতায়াত শুরু হয়েছে। গত ঈদে (ঈদুল ফিতর) খুলে দেওয়া হয়েছিল ঢাকা থেকে বগুড়াগামী লেন। এবার বিস্তৃতি ঘটায় উত্তরের বিরাট অংশজুড়ে যানজটমুক্ত থাকার আশা করা যাচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে ঢাকা-পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া ও রংপুরমুখী যানবাহন পৃথক হয়ে যায়। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদ মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫০ হাজারে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের বগুড়া-রংপুরগামী লেন খুলে দেওয়া হয়।
ঢাকা থেকে রংপুরগামী বাসচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগেই লেনটি খুলে দেওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাত্রা এবার অনেকটাই স্বস্তির হবে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও আগের মতো যানজটে আটকে থাকতে হবে না।
বগুড়াগামী যাত্রী কামাল হোসেন, হাটিকুমরুল মোড় মানেই ছিল দুর্ভোগের আরেক নাম। নতুন লেন চালু হওয়ায় এবার ঈদযাত্রা অনেক সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন।
গাবতলী হাটে গরু নামিয়ে পলাশবাড়ির পথে থাকা ট্রাকচালক হামিদুল বলেন, ঈদের সময় পশুবাহী গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নতুন এই লেন চালু হওয়ায় মালবাহী যানবাহন দ্রুত চলাচল করতে পারবে এবং সময়ও কম লাগবে।
মিরপুর থেকে মোটরসাইকেলে রংপুরগামী শাকিল শেখ বলেন, ঈদের সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হতো এই এলাকাতেই। এবার দ্রুত ও নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানো যাবে বলে তিনি মনে করছেন।
উত্তরবঙ্গগামী প্রায় ৬০ শতাংশ যানবাহন এই লেন ব্যবহার করবে। প্রায় ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের কাজ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদুল আজহাকে ঘিরে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে যানবাহনের দ্বিমুখী চাপ তৈরি হবে। বিশেষ করে পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী পরিবহন একসঙ্গে চলাচল করায় চাপ বাড়বে। নতুন এই লেন সেই চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে জেলার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষ ও গরুর ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা নিরাপত্তাহীনতায় না পড়েন, সেজন্য জেলা পুলিশ দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, গত ঈদে জেলায় ৫৮৫ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবারের ঈদে যানবাহনের বাড়তি চাপ ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্য মাঠে থেকে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
.png)






