ভাঙনস্থলের পাশ থেকেই বালু উত্তোলন করে জিওব্যাগ ফেলছে পাউবো

টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বসতভিটা। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে ভাঙনরোধে কাজ করতে গিয়ে ভাঙনস্থলের পাশেই চর এলাকার কৃষি জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে সেই বালু দিয়েই জিওব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান, এভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ চলতে থাকলে নদীভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সরেজমিনে টাঙ্গাইলের জোকারচর ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ফেলছে। অথচ সেই জিওব্যাগের বালু আনা হচ্ছে ভাঙনস্থলের ঠিক পাশেই অবস্থিত চর এলাকার কৃষি জমি থেকে। এতে নদীভাঙন কমার পরিবর্তে উল্টো আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অথচ কাছেই রয়েছে সরকারি অনুমোদিত বালুর লট ও বড় বাল্কহেড। ঠিকাদারের তড়িঘড়ি ও খরচ বাঁচানোর মানসে ভাঙনস্থলের একদম পাশেই ড্রেজার বসিয়ে এভাবে বালু উত্তোলন করা হয়।

যমুনা নদীর তীরবর্তী স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদী রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও ভাঙনস্থলের পাশ থেকেই ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে এবং নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্য কোথাও নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানোর পরও কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। জিওব্যাগ ফেলার নামে নদীর একদম কাছ থেকে বালু তোলায় নদীর তলদেশ আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং ভাঙনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ছে।
স্থানীয় রহমত আলী আক্ষেপ করে বলেন, নদীর বাঁধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে বারবার গিয়েও কোনো সুরাহা পাইনি। আমরা একাধিকবার মানববন্ধনে অংশ নিয়েছি। বন্যার সময় নামকাওয়াস্তে কয়েকটি জিওব্যাগ ফেলে চলে যায়। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে আমাদের ঘরবাড়ি, মসজিদ-মাদ্রাসা সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, দ্রুত এখানে একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হলে আমরা অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু রক্ষা করতে পারব।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ভাঙনস্থলের পাশে চর এলাকার কৃষি জমি থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ওই এলাকার মূল ভাঙনে নতুন কোনো ক্ষতি হবে না। ভাঙনজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৪০টি পয়েন্টে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে।
.png)






