এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশ /নড়েচড়ে বসল পাউবো, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৬০ স্থাপনা

কুমিল্লার গোমতী নদীর তীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসংলগ্ন সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গত ২০ জুন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘এশিয়া পোস্ট’ এ প্রকাশিত ‘গোপনে বিক্রি হচ্ছে সরকারি জমি, জানে না পাউবো’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের ১৮ দিনের মাথায় এই অভিযান শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া অভিযানের প্রথম দিনেই ৬০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ঝাঁকুনিপাড়া এলাকায় পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাশিয়াত আক্তার এবং কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান খান। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গোমতী নদীর দুই তীরে মোট ১৪৯টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব কটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। প্রথম দিনের অভিযানে তালিকাভুক্ত ৬০টির বেশি দোকান, ঘর এবং অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা এক্সকাভেটরের (ভেকু) মাধ্যমে ভেঙে অপসারণ করা হয়।
গত ২০ জুন প্রকাশিত এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, গোমতী নদীর তীরবর্তী সরকারি জমি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র গোপনে প্লট আকারে বিক্রি করছে। ওই জমিতে একের পর এক দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও বিষয়টি সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবগত নন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

কুমিল্লা পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, এশিয়া পোস্টের সংবাদটি আমাদের নজরে আসে। আমরা আগে থেকেই উচ্ছেদ অভিযানের পরিকল্পনা করছিলাম, তবে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আরও গতি ও গুরুত্ব পায়। গোমতী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ স্থাপনার কারণে বাঁধের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। সম্পূর্ণ দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাশিয়াত আক্তার বলেন, সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব ব্যক্তি অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি জমি পুনরায় দখল বা অবৈধভাবে কেনাবেচার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
এদিকে, প্রতিবেদন প্রকাশের পর দ্রুততম সময়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে তাদের দাবি, শুধু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেই হবে না, সরকারি জমি দখল ও গোপনে বিক্রির সঙ্গে জড়িত পর্দার অন্তরালের মূল চক্রের বিরুদ্ধেও দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।





