মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি: আহমাদুল্লাহ

মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের মতো ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
শনিবার (২৩ মে) বিকেল ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, ‘আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নানাবিধ অনাচারের ঘটনা অস্বীকারের উপায় নেই। মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের মতো ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।’
এ বিষয়ে ২০১৯ সালে একটি লিখিত সুপারিশমালা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বর্তমানে তিনি হজের সফরে জানিয়ে বলেন, ‘হজের সফরে থাকার কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ নেই। দেশে ফিরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা পেশ এবং কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইনশাআল্লাহ।’
ওই পোস্টের কমেন্টে তিনি লেখেন, ‘রামিসার নৃশংস ঘটনা নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, আমি তখন হজের সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা এয়ারপোর্টে। এয়ারপোর্টে থাকা অবস্থায়ই এ নিয়ে সংক্ষিপ্ত পোস্ট করি। এর কিছুক্ষণ পর যখন বনশ্রী মাদ্রাসার আরেক ট্রাজেডির নিউজ ছড়িয়ে পড়ে, তখন আমি মাঝ আকাশে নেটওয়ার্কের বাইরে। সৌদি আরব পৌঁছানোর পর ঘটনা জানতে পারলেও ওমরাহ পালনসহ সফরের নানাবিধ ব্যস্ততায় এদিকে আর সেভাবে মনোনিবেশ করতে পারিনি। তবে আমি অনেক আগে থেকেই বলে আসছি, ধর্ষক মাদ্রাসার হোক কিংবা মাদ্রাসার বাইরে—তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে শাস্তি কার্যকর করতে হবে।
আবাসিক মাদ্রাসায় যৌন-অনাচার কমবেশি আছে মন্তব্য করে তিনি লেখেন, ‘এটা অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই। আমরা যদি এ বিষয়ে নীরব থাকি বা উপেক্ষা করি, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং সমস্যা আরও বাড়বে। আর এ কারণেই নানা সময়ে এই অনাচার বন্ধে আমি লেখালেখি করেছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘মাদ্রাসার প্রতিটি কক্ষ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, যথাযথ শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের ফ্যামিলি বাসার ব্যবস্থা ও নিয়মতান্ত্রিক ছুটি, শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন একসঙ্গে না রাখা, শিক্ষার্থীদের ঢালাও বিছানার পদ্ধতি বন্ধ করে পৃথক খাটের ব্যবস্থা, মহিলা মাদ্রাসায় পুরুষ শিক্ষক ও স্টাফ নিয়োগ না দেওয়াসহ বেশ কয়েকটি পরামর্শ আমি ২০১৯ সালের এক পোস্টে তুলে ধরেছিলাম।’
প্রমিনেন্ট এবং বড় বড় মাদ্রাসায় এই ধরনের অভিযোগ তেমন শোনা যায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তবে এটাও মনে রাখতে হবে, আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বলাৎকারের ঘটনা যে ঘটে, সেটা যেমন সত্য, অনেক ক্ষেত্রে মিডিয়া সত্যের সাথে মিথ্যার রং মাখায় সেটাও সত্য। আবার কিছু কিছু জায়গায় অন্যকে রক্ষা করতে দুর্বল ইমাম বা আলেমকে ফাঁসানো হয়। যেমন সম্প্রতি ফেনীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক। ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে ইমামের নয়, বরং কিশোরীর বড় ভাইয়ের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। আবার প্রমিনেন্ট এবং বড় বড় মাদ্রাসায় এই ধরনের অভিযোগ তেমন শোনা যায় না। বরং মূল স্রোতের বাইরে কিন্ডার গার্টেনগুলোর মতো অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ছোট ছোট মাদরাসাতেই এই ধরনের ঘটনার কথা বেশি শোনা যায়।’
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে জানিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘তবে ঘটনা ছোট মাদ্রাসায় ঘটুক কিংবা বড় মাদ্রাসায়, এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’
হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আলেম ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এক্সপার্টদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করার প্রস্তাবনা দিয়ে এ আলেম বলেন, ‘যেখানেই এই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাবে, এই কমিশন সেখানে ছুটে যাবে এবং সরেজমিন তদন্ত করবে। তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে অপরাধীকে বিচারের মুখামুখি করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর কোনো মাদ্রাসায় যেন চাকরি নিতে না পারে, তার জন্য ব্ল্যাকলিস্টে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। আর যদি ঘটনা ভিন্ন হয়, সেটাও সংবাদ সম্মেলন করে জাতির সামনে উত্থাপন করবে। এতে একদিকে যেমন এ ধরনের অপরাধের ঘটনা কমে আসবে, সেই সাথে এগুলো কোনটা বাস্তব আর কোনটা ষড়যন্ত্র—সেটাও জাতির সামনে পরিষ্কার হবে।
হজের সফর শেষে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত পরিকল্পনা পেশ করবেন বলে জানান তিনি।
তার মতে, বর্তমানে দেশজুড়ে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তির যে সংকট তৈরি হয়েছে, এই সংকট দূর করতে এবং মাদ্রাসার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ও সুধারণা অটুট রাখতে এই ধরনের উদ্যোগ অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
দ্বীনের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ দেশের মাদ্রাসা-ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যদি উদাসীন থাকি, তবে তা সর্বনাশের কারণ হতে পারে।
.png)






