Advertisement

বেরোবির গণিত বিভাগে ভিপি-জিএস পদে ছাত্রলীগের দুই নেতার প্রার্থিতা নিয়ে বিতর্ক

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বেরোবি
বেরোবির গণিত বিভাগে ভিপি-জিএস পদে ছাত্রলীগের দুই নেতার প্রার্থিতা নিয়ে বিতর্ক
মো. পিয়াল হাসান ও মো. আহসান হাসান হাবিব সৌরভ। ছবি: সংগৃহীত

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গণিত বিভাগের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি ও জিএস পদে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই নেতার প্রার্থিতা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচনের তপশিল অনুযায়ী, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নিষিদ্ধ শাখা ছাত্রলীগের উপ-অটিজমবিষয়ক সম্পাদক মো. আহসান হাসান হাবিব সৌরভ। অন্যদিকে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নিষিদ্ধ শাখা ছাত্রলীগের উপ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. পিয়াল হাসান।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন শিক্ষার্থীর দাবি, উভয় প্রার্থী অতীতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের আলোচনা চলছে।

গণিত বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, বিভাগীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই আমরা প্রার্থীদের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি বলে মনে করি। যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে এবং পরবর্তীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে যে ছাত্রলীগকে দেশে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের কোনো নেতাকর্মী আমাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হোক এবং প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করুক সেটা আমরা চাই না।

এ বিষয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিফাত হোসেন রাফি এশিয়া পোস্টকে বলেন, যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেনি, তারা এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্নভাবে কার্যক্রম চালাতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচিত ছিল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং তাদের প্রার্থিতার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা।

এদিকে বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা শিবলী সাদিক বলেন, বিভাগের উচিত ছিল যেন ছাত্রলীগের কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করব এবং পরে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব।

তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী চলমান (রানিং) ছাত্র হলে তিনি ভোটার ও প্রার্থী—দুইই হতে পারবেন, যদি তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না থাকে।

গণিত বিভাগ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনার আরমান হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রানিং শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে ও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা তালিকাভুক্ত অভিযোগ থাকত, তাহলে তারা প্রার্থী হতে পারতেন না। যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ বা শাস্তি নেই, তাই তাদের প্রার্থিতা বৈধ। আমরা গঠনতন্ত্র অনুসারেই কাজ করেছি। তবে যাদের বিরুদ্ধে আবু সাঈদ হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রার্থিতা গ্রহণ করা হয়নি।