Advertisement

নজরুলের প্রতিটি সৃষ্টির শিরোনাম একেকটা পারমাণবিক বোমা: উপাচার্য

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
নজরুলের প্রতিটি সৃষ্টির শিরোনাম একেকটা পারমাণবিক বোমা: উপাচার্য
কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে বক্তব্য দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন নজরুলের সৃষ্টিকর্মের বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নজরুলের প্রত্যেকটি সৃষ্টির শিরোনামই একেকটা পারমাণবিক বোমা। তার সেই সৃষ্টিকর্মগুলো যদি বিভিন্ন ভাষায় ভাষান্তর করা হতো, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই নোবেল প্রাইজ পেতেন।

‎তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক বাঙালির মনে নজরুল চেতনা অনন্য হিসেবে বিরাজমান। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনার নাম নজরুলের সৃষ্টিকর্ম অনুযায়ী রাখা হয়েছে। তবে নজরুলের চেতনা ধারণ করা আর জানার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নজরুলকে জানতে হলে তার সৃষ্টিশীলতার গভীরে প্রবেশ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

‎জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের উদ্যোগে এ একক বক্তৃতা ও গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎অনুষ্ঠানে একক বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি, প্রখ্যাত নজরুল গবেষক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার। বক্তব্যের শুরুতে জুলাই শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, কবি নজরুলকে নিয়ে বিভিন্ন সময় ভুল গল্প সাজানো হয়েছে। কবি কখনও বেলনা দিয়ে রুটি বানাননি, তিনি মূলত একটি বেকারিতে কাজ করতেন।

‎কবির অলৌকিক প্রভার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দুধের সঙ্গে সাদা যেমন আর দেহের সঙ্গে রুহের যেমন সম্পর্ক, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের সঙ্গে নজরুলের সম্পর্ক। নজরুলের একেকটি শব্দ একেকটি যুদ্ধ ঘোষণা। দারোগা রফিজউল্লাহ সেই প্রতিভাবান নজরুলকে ত্রিশালের মাটিতে নিয়ে এসেছিলেন।

‎অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানস্থলে আগত বক্তাগণ স্বাগত বক্তব্য রেখেছেন।

জানা যায়, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের এই সেমিনারে শিক্ষার্থীদের মোট ৩৮টি গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্প মূল্যায়নকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নজরুল গবেষক প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আনাম।