নামাজে আবু বকরকে (রা.) যে দোয়া পড়তে বলেছেন মহানবী (সা.)

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
নামাজে আবু বকরকে (রা.) যে দোয়া পড়তে বলেছেন মহানবী (সা.)
মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন মুসল্লিরা। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের ফরজ বিধান নামাজ। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর নিশ্চয় তা বিনয়ীরা ছাড়া অন্যদের ওপর কঠিন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৫)

আল্লাহ আরও বলেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত আদায় করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৩)

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি নামাজ। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের ওপর স্থাপিত। এক. এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাসক নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল, দুই. নামাজ কায়েম করা, তিন. জাকাত দেওয়া, চার. হজ করা এবং পাঁচ. রমজানের রোজা রাখা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮)

কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে, এ থেকেও নামাজের গুরুত্বের বিষয়টি বুঝে আসে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার কাজগুলোর মধ্যে নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি সঠিকভাবে নামাজ আদায় করা হয়ে থাকে, তবে সে নাজাত পাবে এবং সফলকাম হবে। যদি নামাজ নষ্ট হয়ে থাকে, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (নাসায়ি)

একা নামাজ পড়ার চেয়ে জামাতে নামাজ আদায় করার গুরুত্ব অনেক বেশি। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘জামাতে নামাজ আদায় করা একাকী নামাজ আদায় করার চেয়ে ২৭ গুণ বেশি সওয়াবের।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৫)

সাহাবিরা সবকিছুর আগে নামাজ প্রাধান্য দিতেন। ফরজ নামাজ ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। একই সঙ্গে তারা বেশি বেশি নফল নামাজ পড়তেন। নফল নামাজে বিভিন্ন দোয়া পড়তেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে একবার আবু বকর (রা.) নামাজে পড়ার জন্য একটি দোয়া শিখিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তখন তিনি তাকে দোয়া মাসুরা শিখিয়ে দেন। হাদিসে আছে, একবার আবু বকর সিদ্দিক (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বললেন, আমাকে নামাজের মধ্যে পড়ার জন্য একটি দোয়া শিখিয়ে দিন। তখন তিনি দোয়া মাসুরা শিখিয়ে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৩৪)

দোয়া মাসুরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। প্রত্যেক নামাজের শেষ বৈঠকে দরুদ শরিফ পাঠের পর এ দোয়া পড়া হয়। এটি পড়া সুন্নত। এটি পড়ে নামাজ শেষ করার জন্য সালাম ফেরাতে হয়। কোনো কারণে দোয়া মাসুরা না পড়তে পারলে অসুবিধে নেই।

দোয়া মাসুরার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করা হয়। নিজের ওপর জুলুম করার স্বীকারোক্তি দিয়ে গুনাহের ক্ষমা চাওয়া হয়। নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করা হয়। কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়। আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়। আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা হয়।

দোয়া মাসুরা

اللَّهمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كثِيرًا، وَلا يَغْفِر الذُّنوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِر لي مغْفِرَةً مِن عِنْدِكَ وَارحَمْني، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفور الرَّحِيم

দোয়া মাসুরার বাংলা উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফসি, জুলমান কাসিরাও, ওয়া লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা, ইল্লা আংতা, ফাগফিরলি, মাগফিরাতাম মিন ইংদিকা, ওয়ার হামনি ইন্নাকা আংতাল গাফুরুর রহিম।

দোয়া মাসুরার বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ, আমি নিজের ওপর অনেক অপরাধ করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমার ওপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।