Advertisement

পেটের মেদ কমাতে সহজ এক অভ্যাসের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
পেটের মেদ কমাতে সহজ এক অভ্যাসের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
ছবি : সংগৃহীত

অনেক মানুষই পেটের বাড়তি মেদ নিয়ে চিন্তায় থাকেন। আয়নায় তাকালে কোমরের চারপাশে জমে থাকা চর্বি যেন সবচেয়ে আগে চোখে পড়ে। কেউ ডায়েট শুরু করেন, কেউ জিমে ভর্তি হন, আবার কেউ নানা ধরনের ব্যায়ামের চেষ্টা করেন। তবুও ভুঁড়ি কমানো সহজ হয় না।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুব ছোট একটি অভ্যাসও আনতে পারে বড় পরিবর্তন।

সেটি হলো প্রতিবার খাবারের পর মাত্র ১০ মিনিট হাঁটা!

শুনতে সাধারণ মনে হলেও এই অভ্যাস শরীরের ওপর বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণাতেও এর উপকারিতার কথা উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের পর হাঁটলে শরীর দ্রুত গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে। এতে রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর যখন শরীরে অতিরিক্ত গ্লুকোজ জমে থাকে না, তখন তা চর্বি হিসেবে সংরক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।

বিশেষ করে পেটের মেদের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান ও হোলিস্টিক নিউট্রিশনিস্ট তপস্যা মুন্ধ্রা বলেন, খাবারের পর হাঁটা শরীরের মেটাবলিজম সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। এতে ধীরে ধীরে চর্বি জমার প্রবণতা কমতে পারে। আর খাবারের পর হাঁটার সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো এটি হজমে সহায়তা করে।

অনেকেরই খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা গ্যাসের সমস্যা হয়। হালকা হাঁটাহাঁটি খাবার হজমের প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং সেই অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও খাবারের পর হাঁটার বড় ভূমিকা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর হাঁটা সবচেয়ে ভালো। এতে খাবার কিছুটা হজমের দিকে এগোয়, তারপর হাঁটার কারণে শরীর গ্লুকোজ ব্যবহার শুরু করে।

এটি ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।

খাবারের পর হাঁটার আরেকটি বড় উপকার হলো এটি শরীরের মেটাবলিজম সচল রাখে। শরীর তখন খাবার থেকে পাওয়া শক্তি ব্যবহার করতে ব্যস্ত থাকে। ফলে অতিরিক্ত চর্বি জমার সুযোগ কমে যায়।

হৃদযন্ত্রের জন্যও এই অভ্যাস উপকারী।

নিয়মিত হাঁটা রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও মেটাবলিক সমস্যার ঝুঁকি কমাতে পারে।

তবে হাঁটার ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটা শুরু করা ঠিক নয়। অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করা ভালো।

হাঁটার গতি খুব বেশি হওয়ারও দরকার নেই। ধীর থেকে মাঝারি গতির হাঁটাই যথেষ্ট। ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটলেই উপকার পাওয়া যেতে পারে।

খাওয়ার পর কঠিন ব্যায়াম বা ভারী শরীরচর্চা এড়িয়ে চলা উচিত। এতে অস্বস্তি বা বমি ভাব হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যাদের পেটের মেদ বেশি, যারা দীর্ঘসময় বসে কাজ করেন, যাদের রক্তে শর্করার সমস্যা রয়েছে বা নিয়মিত হজমের সমস্যা হয়, তাদের জন্য এই অভ্যাস বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।

তবে ফল পেতে ধৈর্য ধরতে হবে।

প্রথম কিছু উপকার এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বোঝা যেতে পারে। আর নিয়ম মেনে চললে চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে পেটের মেদে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

তবে শুধু হাঁটলেই হবে না। এর সঙ্গে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শরীরচর্চাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অতিরিক্ত চিনি ও প্রসেসড খাবার কমিয়ে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে ফল আরও ভালো হতে পারে।

সবশেষে তারা একটি বিষয়েই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন আর তা হলো ধারাবাহিকতা। কারণ, পেটের মেদ কমাতে একদিনের কঠিন ব্যায়ামের চেয়ে প্রতিদিনের ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনেক বেশি কার্যকর।

সূত্র: এনডিটিভি