হাসিনাকে মূর্খ মনে করি না, এত অপকর্মের পরও কেউ সরাতে পারেনি: মাসুদ কামাল

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
হাসিনাকে মূর্খ মনে করি না, এত অপকর্মের পরও কেউ সরাতে পারেনি: মাসুদ কামাল
সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল। ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না, তার উত্তর জানতে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল। তিনি বলেছেন, ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া শেখ হাসিনার লিখিত বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে। তবে দেশে ফিরলেও দল পরিচালনার মতো সক্ষমতা শেখ হাসিনার রয়েছে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না।

রোববার (১৩ জুলাই) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

মাসুদ কামাল বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, তিনি চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। তাই তিনি সত্যিই ফিরবেন কি না, তা নিশ্চিত হতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

তিনি বলেন, এর আগেও শেখ হাসিনা বলেছিলেন, উনি আশেপাশে আছেন, চট করে ঢুকে পড়বেন। তো এই চট করে আসা আর শেষ হয় নাই। এই দফায় উনি আসতে পারেন আবার আসতে নাও পারেন। কিন্তু আসেন আর না আসেন উনি যে কথাটা বলেছেন এটাকে আমি গুরুত্ব দেই। এবারটা গুরুত্ব দিচ্ছি কেন, অনেক সময় কথা বলার সময় স্লিপ অফ টাং হয়ে যায় অথবা আবেগে আপ্লুত হয়ে কিছু বলে ফেলে। কিন্তু এবারের বক্তব্যটি কোনো জনসভা বা তাৎক্ষণিক মন্তব্য নয়। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির লিখিত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা লিখিত উত্তর দিয়েছেন। তাই এটি ভেবেচিন্তে দেওয়া বক্তব্য বলেই মনে করি।

এই সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, শেখ হাসিনার ভালোমন্দ নিয়ে যত কিছুই বলেন না কেন, আমি কিন্তু শেখ হাসিনাকে মূর্খ মনে করি না। উনি মেধাবী লোক, কোনো সন্দেহ নেই। একটা লোক এত এত অপকর্ম করছেন টানা ১০/১৫ বছর, একদম কিছুই না বুঝলে না জানলে এটা পারতেন না। আমাদের দেশের পলিটিক্যাল পার্টিগুলো তো উনাকে নামানোর অনেক চেষ্টা করছে, পারে নাই। শেষ পর্যন্ত পাবলিকে নামাইছে। কাজেই উনার মেধাটা উনি কোন জায়গায় ব্যয় করছেন উনার ব্যাপার। কিন্তু উনার মাথায় বুদ্ধি আছে এবং এই বুদ্ধি দিয়েই উনি একটা কথা বলছেন। এই কথার রাজনৈতিক গুরুত্ব আমি মনে করি অনেক।

তিনি বলেন, এই ঘোষণায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের এনার্জি তৈরি হবে। এতে কোনো সন্দেহ নাই। এর আবার নেতিবাচক দিকও আছে। এনার্জির ঠেলায় কেউ হয়তো লাফায়া রাস্তায় চলে আসবে, কেউ পুলিশের পেদানি খাবে অথবা একটা মামলা হবে। আবার তার ফ্যামিলি দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়বে। এটা হলো নেতিবাচক দিক। ইতিবাচক দিক হলো তারা ডিসেম্বর পর্যন্ত এই এনার্জিটা তাদের মধ্যে লালন করবে। তারা ডিসেম্বর পর্যন্ত ভাববে যে হয়তো আমার নেত্রী আসবে।

তবে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেও আবার সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে পারবেন বলে মনে করেন না মাসুদ কামাল। তার মতে, বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা এবং এই পর্যায়ে নতুন করে দল পরিচালনার মতো সক্ষমতা শেখ হাসিনার রয়েছে বলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের ইতিহাসে জনগণ সাধারণত নতুন কাউকে ক্ষমতায় আনতে ভোট দেয়নি; বরং ক্ষমতাসীনদের প্রতি অসন্তোষ থেকেই পরিবর্তন এসেছে।

তার ভাষায়, এই সরকার যদি মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় আসতে পারে। সেই সম্ভাবনা থেকে আওয়ামী লীগকেও পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায় না। তবে সরকার যদি সফলভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারে, তাহলে আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে রাজনৈতিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে।