ইয়ামালের সঙ্গে সেই ছবি নিয়ে মুখ খুললেন মেসি

ঘটনাটি ২০০৭ সালের ডিসেম্বরের। বার্সেলোনার এক স্টুডিওতে প্রস্তুত করা হয়েছে ছোট্ট একটা প্লাস্টিকের বাথটাব, তাতে পানি রাখা। সামনে বসানো হলো ২০ বছর বয়সী লাজুক এক তরুণ ফুটবলারকে। এরপর তার কোলে তুলে দেওয়া হলো পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুকে।
সেই তরুণের নাম বিশ্ব ফুটবলের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি আর বাথটাবে রাখা শিশুটিই স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল।
১৯ বছর পর তারা দুজন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বী। আগামীকাল রোববার দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-স্পেন, যে ম্যাচ ফিরিয়ে এনেছে মেসি-ইয়ামালের সেই স্মৃতি।
লিওনেল মেসি তাকে গোসল করাচ্ছেন— একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় লামিনে ইয়ামালকে দেখানো হয়েছিল সেই আইকনিক ছবি।
তখন স্প্যানিশ তারকা বললেন, ‘বেশ, আমি অনেক বড় হয়ে গেছি এবং লিও-ও। আমি আশা করি ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হতে পারব, যেহেতু আমরা ফিনালিসিমায় খেলতে পারিনি।’
২০০৭ সালের ইয়ামাল-মেসির ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচিত। আসলে কী হয়েছিল সেদিন? কীভাবে দুই প্রজন্মের দুজন ক্যামেরাবন্দি হলেন?
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ফিফার এক ইভেন্টে সেই ছবি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে মেসিকেও। সেখানে স্পেন-আর্জেন্টিনার অধিনায়ক-কোচ ছিলেন। এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক রিও ফার্দিনান্দ ও টেনিস তারকা নোভাক জোকাভিচ। দুজনের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন বাস্কেটবল ও মেজর সকার লিগের খেলোয়াড় টম ব্র্যাডি।
ইয়ামালের সেই ছবি নিয়ে মেসিকে ইংরেজিতে প্রশ্ন করেন ব্র্যাডি। মেসি ইংরেজি বুঝতে পারেননি। দোভাষী মেসির উদ্দেশে স্প্যানিশ ভাষায় রুপান্তর করে দেন।
মেসি হাসিমুখে স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, ‘সত্যি কথা হলো ছবিটা অদ্ভুত। কারণ এটাই জীবন। যখন আমি ছোট ছিলাম, তখন ছবিটা তুলেছিলাম। এখন বিশ্বকাপ ফাইনালে তার মুখোমুখি হচ্ছি। এটা অবিশ্বাস্য। কিন্তু সে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা। সে ইতোমধ্যে স্পেনের হয়ে ইউরো জিতেছে। বর্তমানে দারুণ করছে, আগামীর ভবিষ্যৎও তার জন্য দারুণ।'
মেসি আরও বলেন, ‘লামিন একজন অসাধারণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়, যাকে আমি অনুসরণ করি কারণ সে আমার পছন্দের একটি ক্লাবের হয়ে খেলে। আমি সব সময় তার জন্য শুভকামনা জানাই, তার মঙ্গল চাই। সত্যি বলতে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং তার পুরো ক্যারিয়ারটাই সামনে পড়ে আছে। তার সামনে ঐতিহাসিক কিছু অর্জন করার দারুণ সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেটা এবার যাতে না ঘটে, তার জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমি শুধু তার জন্য শুভকামনা জানাতে চাই।’
কৈশোরে আর্জেন্টিনা ছেড়ে বার্সেলোনাতেই পাড়ি জমান মেসি। সেখানেই বেড়ে ওঠেন তিনি। তাই ইয়ামালের প্রতি তার একটু আলাদা স্নেহ, ‘বার্সেলোনায় অনেক সময় কেটেছে। তার সঙ্গেও সেখান থেকে পরিচয়।’
দুই দশক পর দুজন একে অন্যের সঙ্গে বিশ্বকাপের ফাইনালের জন্য লড়ছেন, যাকে আর্জেন্টাইন জাদুকর ‘অনেকটা ভাগ্যের অবিশ্বাস্য গল্প’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
বড় ম্যাচের আগে চাপ সামলানো নিয়ে প্রশ্নে মেসি বলেন, ‘আমরা স্বাভাবিক খেলার চেষ্টাই করি। খেলায় হার-জিত থাকবেই।’
সূত্র: দ্য অ্যাথলেটিক
.png)






