অনন্য সমাজ কল্যাণ সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন

পাবনার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অনন্য সমাজ কল্যাণ সংস্থার (এএসকেএস) বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক।
রোববার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে কমিটি গঠন করা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনার আলোকে পাবনার শালগাড়িয়ায় অবস্থিত নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান এএসকেএসের বিরুদ্ধে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) উত্থাপিত অভিযোগগুলো সরেজমিনে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেককে। সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পাবনা প্রবেশন অফিসের প্রবেশন অফিসার মো. হাফিজ আহমেদ এবং শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, তদন্ত কমিটিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
অফিস আদেশে এমআরএ’র অভিযোগের প্রকৃতি বা বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এএসকেএস’র সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে ধারাবাহিকভাবে তা পরিদর্শন ও তদন্ত করে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। এসব তদন্তে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন লঙ্ঘন, স্বজনপ্রীতি, সংস্থা পরিচালনায় স্বচ্ছতা লঙ্ঘন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধিবিধানের লঙ্ঘন, সংস্থার জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি, ভুয়া কার্যবিবরণী, ভুয়া ঋণ বিতরণ ও সংস্থার আর্থিক ক্ষতিসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পায় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি।
প্রায় অর্ধশত অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ উল্লেখ্য করে এএসকেএস’এ প্রশাসক নিয়োগ, নিবন্ধনের কপি, অনুমোদিত গঠনতন্ত্র এবং পরিচালনা পর্ষদের তালিকা চেয়ে গত বছরের ২৮ আগস্ট সমাজসেবা অধিদপ্তরকে এবং ১৩ অক্টোবর পাবনা সমাজসেবা কার্যালয় বরাবর চিঠি পাঠায় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। চিঠি দেওয়ার পর এএসকেএস’এ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তরকে চিঠি দেয় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্র জানায়, তদন্ত কার্যক্রমে অভিযোগের সত্যতা, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসরণের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুল কাদের বলেন, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






