‘আমি ভাবব, আপনারাও ভাবুন’: একাদশ নিয়ে আনচেলত্তি

জাপানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচের আগে ব্রাজিলের একাদশ নিয়ে রহস্য রাখলেন কার্লো আনচেলত্তি। তবে রহস্যের মধ্যেও রসিকতা করতে ভুললেন না ইতালিয়ান কোচ। খেলোয়াড়রা একাদশ না জানলে কীভাবে ঘুমায়, এমন প্রশ্নে আনচেলত্তির জবাব, খেলোয়াড়রা খুব ভালো ঘুমায়, কোচের চেয়েও ভালো।
হিউস্টনে সোমবার জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ম্যাচটি শুরু হবে ব্রাজিল সময় দুপুর ২টায়, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়। নকআউট পর্ব হওয়ায় হারলেই শেষ হয়ে যাবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিযান। তাই ম্যাচটিকে ফাইনালের মতোই গুরুত্ব দিচ্ছেন আনচেলত্তি।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ বলেন, এমন ম্যাচে শুধু টেকনিক বা কৌশল নয়, দরকার পরিষ্কার ধারণা, দৃঢ় মানসিকতা ও হৃদয়। নকআউট ম্যাচে অনেক কিছু ঘটতে পারে। অতিরিক্ত সময়, টাইব্রেকার, চাপ, অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি, সবকিছুর জন্যই প্রস্তুত থাকতে হবে দলকে।
ব্রাজিল শেষ দুই ম্যাচে ভালো করেছে বলেও আত্মবিশ্বাসী আনচেলত্তি। তার মতে, দল প্রস্তুত, অনুপ্রাণিত এবং আত্মবিশ্বাসী। তবে জাপানকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখছেন না তিনি। ব্রাজিল কোচ মনে করিয়ে দেন, জাপান সংগঠিত, মানসম্পন্ন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল।
একাদশ নিয়ে প্রশ্নে সরাসরি কিছু জানাননি আনচেলত্তি। আগের ম্যাচের একাদশই থাকবে কি না, সেটিও নিশ্চিত করেননি। বরং রসিকতার সুরে বলেন, এখনই একাদশ বলে দিলে সাংবাদিকেরা খুব নিশ্চিন্ত হয়ে যাবেন। তাই তিনি নিজেও ভাববেন, সাংবাদিকদেরও ভাবতে হবে।
খেলোয়াড়রা একাদশ না জানলে ঘুমাতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে আরও হাসির পরিবেশ তৈরি করেন আনচেলত্তি। তাঁর মতে, সাধারণত যে খেলোয়াড় খেলবে, সে জানে যে সে খেলবে। যে খেলবে না, সে হয়তো জানে না। বিষয়টি ব্যক্তিগত আলাপের মাধ্যমে জানানো হয়। তবে খেলোয়াড়রা খুব ভালো ঘুমায়, কোচের চেয়ে ভালো।
জাপান ম্যাচে নেইমারের ভূমিকা নিয়েও আগ্রহ আছে। কাফ ইনজুরি কাটিয়ে ধীরে ধীরে ফিরছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে ১৫ মিনিটের কিছু বেশি সময় খেলেছিলেন তিনি। আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমার ভালোভাবে উন্নতি করছেন এবং গত এক সপ্তাহে তাঁর অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। তবে তিনি কতক্ষণ খেলবেন, সেটি নির্ভর করবে ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর।
নেইমারের পুরো প্রস্তুতি না পাওয়া নিয়ে আক্ষেপও আছে আনচেলত্তির। ব্রাজিল কোচ বলেন, নেইমার পুরো সময় দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারেননি, এটি দুঃখের। তবে এখন তিনি ভালো অবস্থায় আছেন। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের প্রেক্ষাপট বুঝেই তাঁকে ব্যবহার করা হবে।
মাতেউস কুনিয়ার ভূমিকাও আলাদা করে ব্যাখ্যা করেন আনচেলত্তি। আগের ম্যাচে কুনিয়ার অবস্থান ব্রাজিলকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। কারণ সেটি খুব নির্দিষ্ট পজিশন ছিল না। প্রতিপক্ষকে স্থির রেফারেন্স না দিতে আক্রমণে পজিশন বদলানো গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন ব্রাজিল কোচ।
জাপানের এক তরুণ ফরোয়ার্ড ব্রাজিলকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, সেটি নিয়েও আনচেলত্তির কাছে জানতে চাওয়া হয়। তবে কথার লড়াইয়ে জড়াতে চাননি তিনি। তাঁর উত্তর ছিল পরিষ্কার। ব্রাজিল প্রতিপক্ষের কথায় নয়, নিজেদের প্রস্তুতি ও জাপানের শক্তিতে মনোযোগ দেবে। কোনো মনস্তাত্ত্বিক খেলায় ঢুকতে চান না তিনি।
গত অক্টোবরে প্রীতি ম্যাচে জাপানের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। সেই ম্যাচকেও গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন আনচেলত্তি। তাঁর মতে, সেই হার দেখিয়েছে জাপান কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল। সাম্প্রতিক সময়ে বড় দলের বিপক্ষে জাপানের সাফল্যও ব্রাজিলের সতর্ক থাকার কারণ। তাই পূর্ণ সম্মান দিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছেন আনচেলত্তি।
দুপুরে ম্যাচ হওয়া নিয়েও খুব উদ্বিগ্ন নন ব্রাজিল কোচতাঁর মতে, সময়সূচিতে একটু পরিবর্তন থাকলেও বড় সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ব্রাজিল সাধারণত দিনের কাছাকাছি সময়েই অনুশীলন করে। হিউস্টনের স্টেডিয়ামের অবকাঠামোও ভালো, তাই গরম বড় বাধা হবে বলে মনে করছেন না তিনি।
বিশ্বকাপের ফেভারিট প্রসঙ্গে আনচেলত্তির অবস্থানও সতর্ক। তিনি এখনো কোনো দলকে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবে দেখছেন নাতাাঁর মতে, কেউ গ্রুপ পর্বে ভালো করেছে, কেউ কম ভালো করেছে, কিন্তু টুর্নামেন্ট এখনো খুব ভারসাম্যপূর্ণ। নকআউটে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন।
ইতালিয়ান হলেও ব্রাজিল কোচ হিসেবে নিজেকে স্বচ্ছন্দ বলেও জানান আনচেলত্তাতাঁর মতে, ফুটবল বদলে গেছে। এখন আর কোনো দল অগোছালো নয়। সবাই শারীরিকভাবে প্রস্তুত, সবাই সংগঠিত, সবাই লড়াই করতে জানে। দলগুলোর রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা ও তীব্তাতাঁকে মুগ্ধ করেছে।
জাপানের বিপক্ষে তাই ব্রাজিলের লড়াই শুধু প্রতিপক্ষকে হারানোর নয়, চাপ সামলানোরও। আনচেলত্তি একাদশ গোপন রাখছেন, নেইমার ধীরে ধীরে ফিরছেন, আর জাপানকে তিনি ফাইনালের মতো গুরুত্ব দিচ্ছেন। নকআউটের প্রথম ধাপে ব্রাজিলের সামনে পরীক্ষা তাই সহজ নয়।






