ব্রাজিলকে খোঁচা জাপানি ফরোয়ার্ডের, ‘এখন শুধু ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা শক্তিশালী’

ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচের আগে কথার লড়াইয়ে বাড়তি আবহ তৈরি করলেন জাপানের তরুণ ফরোয়ার্ড কেনতো শিওগাই। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নিয়ে তার মন্তব্য এখন আলোচনায়। ব্রাজিলকে সম্মান করলেও আগের মতো অজেয় শক্তি হিসেবে দেখছেন না জাপানের এই তরুণ।
গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে ওঠার পর অনুশীলনে ফিরেছে জাপান। সামনে প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। সেই প্রস্তুতির মাঝেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিওগাই এমন কিছু কথা বলেছেন, যা ব্রাজিল ম্যাচের আগে আলোচনার খোরাক বাড়িয়েছে।
ব্রাজিল সম্পর্কে তার ধারণা জানতে চাইলে শিওগাই বলেন, ‘ব্রাজিল আগে শক্তিশালী ছিল, কিন্তু এখন কেমন?’ এরপর নিজের প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখন শুধু ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনাই শক্তিশালী।’
শিওগাইয়ের মন্তব্যে বোঝা যায়, জাপানের নতুন প্রজন্ম ব্রাজিলকে আর আগের মতো ভয় নিয়ে দেখে না। পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহোদের যুগের ব্রাজিল তাদের কাছে ইতিহাসের অংশ। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব ফুটবলে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার সাফল্যও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে।
নেইমার প্রসঙ্গেও আত্মবিশ্বাসী শোনায় জাপানের তরুণকে। অতীতে জাপানের বিপক্ষে নেইমারের গোলের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘ওটা পুরোনো নেইমার।’ শিওগাইয়ের বিশ্বাস, এখন জাপানের সেন্টারব্যাকরা আগের চেয়ে বেশি সংগঠিত এবং ব্রাজিলের আক্রমণ সামলানোর মতো প্রস্তুত।
এই বক্তব্যে আত্মবিশ্বাস যেমন আছে, তেমনি আছে ব্রাজিলকে চ্যালেঞ্জ করার স্পষ্ট ইঙ্গিত। শিওগাই মনে করেন, ব্রাজিলকে হারাতে পারলে জাপান বড় গতি পাবে। নকআউটে এমন জয় পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বদলে দিতে পারে।
চলতি বিশ্বকাপে শিওগাই এখনো বড় ভূমিকা পাননি। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বদলি হিসেবে খেলেছেন। তবে সুযোগ কম পেলেও নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন তিনি। তার বিশ্বাস, কোনো না কোনো সময় দলের তাকে দরকার হবে, আর সেই মুহূর্তের জন্য তিনি তৈরি থাকতে চান।
জাপানের আত্মবিশ্বাসের পেছনে সাম্প্রতিক বাস্তবতাও আছে। গত অক্টোবরে টোকিওতে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল জাপান। সেটি ছিল ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের প্রথম জয়। সেই স্মৃতি জাপানকে দেখিয়েছে, ব্রাজিলকে হারানো অসম্ভব নয়।
তবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ প্রীতি ম্যাচের মতো নয়। এখানে একটি ভুলই বিদায়ের কারণ হতে পারে। ব্রাজিল জানে, জাপান সংগঠিত, দ্রুতগতির এবং আত্মবিশ্বাসী দল। জাপানও জানে, ব্রাজিলকে কথায় চ্যালেঞ্জ করা সহজ, কিন্তু মাঠে থামানো কঠিন।
এই ম্যাচের আগে ব্রাজিলের বড় আলোচনার জায়গা নেইমারের ফিটনেস। কাফ ইনজুরি কাটিয়ে ধীরে ধীরে ফিরছেন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে ১৫ মিনিটের কিছু বেশি সময় খেলেছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। জাপানের বিপক্ষে তাকে আরও বেশি সময় খেলানোর আশা করছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
আনচেলত্তি অবশ্য কথার লড়াইয়ে জড়াতে চান না। তার মনোযোগ মাঠের প্রস্তুতিতে। জাপানকে যথেষ্ট সম্মান দিচ্ছেন ব্রাজিল কোচ। গত অক্টোবরে জাপানের কাছে হার থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তার মতে, নকআউট ম্যাচে অতিরিক্ত সময়, টাইব্রেকারসহ যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।






