‘এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না’, ব্রাজিলকে জিতিয়ে মার্তিনেল্লি

মুখে আঘাতের চিহ্ন তখনও স্পষ্ট। কিন্তু গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মুখে ছিল শুধু হাসি। জাপানের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে গোল করে ব্রাজিলকে শেষ ষোলোয় তোলা এই ফরোয়ার্ড যেন নিজেই পুরো ঘটনা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
হিউস্টনে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর নাটকীয় ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পরে কাসেমিরোর গোলে সমতা ফেরে। আর যোগ করা সময়ের শেষ দিকে মার্তিনেল্লির গোলেই নিশ্চিত হয় সেলেসাওদের জয়।
ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মার্তিনেল্লি। ব্রাজিলের মানুষকে খুশি করতে পারা, পরিবারের সামনে এমন মুহূর্ত পাওয়া, সব মিলিয়ে তার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন ছিল। স্ত্রী, বাবা-মা, পরিবার ও বন্ধুদের কথা বলতে গিয়ে আর্সেনাল ফরোয়ার্ড বলেন, ‘এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না।’
মার্তিনেল্লি জানান, হয়তো কিছু সময় পর বুঝতে পারবেন, কী করেছেন। তার কাছে মুহূর্তটি শুধু একটি গোল নয়, বরং বিশ্বকাপের নকআউটে ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের নাম লিখে ফেলার এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে পোস্টে শট লেগে গোল পাননি মার্তিনেল্লি। সেই আক্ষেপের কথাও মনে ছিল তার। পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, আরেকটি সুযোগ আসবে বলে বিশ্বাসও করেছিলেন। জাপানের বিপক্ষে সেই সুযোগ পেয়েই গোল করেন তিনি।
মার্তিনেল্লি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরই জাপান রক্ষণভাগের সঙ্গে সংঘর্ষে মুখে আঘাত পান তিনি। দাইজেন মায়েদার সঙ্গে চ্যালেঞ্জের পর পেনাল্টির আবেদনও করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। পেনাল্টি না মিললেও শেষ কথা বলেন তিনিই।
চেনা উইং পজিশনের বাইরে একটু ভেতরের ভূমিকায় খেলতে হয়েছে মার্তিনেল্লিকে। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, ওই জায়গায় তিনি খুব বেশি খেলেন না। তবে আনচেলত্তি তাকে আগেই বুঝিয়েছিলেন, উইং বা মাঝের জায়গা, দুই ভূমিকাতেই কীভাবে দলকে সাহায্য করা যায়। মার্তিনেল্লির কথায়, তার লক্ষ্য একটাই, যেভাবেই হোক ব্রাজিলের কাজে লাগা।
জয়সূচক গোলের কৃতিত্ব একা নিতে চাননি মার্তিনেল্লি। বরং ব্রুনো গিমারায়েসের পাসকে অসাধারণ বলেছেন তিনি। যোগ করা সময়ে বক্সের ভেতর জায়গা বানিয়ে ব্রুনো যে পাসটি দেন, সেটি থেকে প্রায় ফাঁকায় বল পেয়ে গোল করেন মার্তিনেল্লি।
মার্তিনেল্লি জানান, ব্রুনোর সঙ্গে এমন মুভমেন্ট নিয়ে তাদের কথা হয়েছিল। বক্সের ভেতর ফুলব্যাক ও সেন্টারব্যাকের মাঝের জায়গায় থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। ব্রুনো শট নিলে রিবাউন্ড ধরার প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু নিউক্যাসল মিডফিল্ডার এত নিখুঁত পাস দেন যে কাজটা সহজ হয়ে যায় তাঁর।
এই জয়ের পেছনে পুরো দলের লড়াই দেখছেন মার্তিনেল্লি। তার মতে, ব্রাজিল পুরো ম্যাচ লড়েছে। পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি। সমতা ফেরানোর পর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দ্বিতীয় গোলের জন্য চেষ্টা করেছে। তাই জয়টি তাদের প্রাপ্য ছিল বলেই মনে করেন তিনি।
জাপানের বিপক্ষে জয় সহজ ছিল না। কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিলকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছিল হাজিমে মোরিয়াসুর দল। জাপানের সংগঠিত রক্ষণ, গোলরক্ষক জিওন সুজুকির একের পর এক সেভ এবং ব্রাজিলের প্রথমার্ধের ছন্দহীনতা ম্যাচকে কঠিন করে তোলে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড়দের প্রভাব, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের তৎপরতা, কাসেমিরোর অভিজ্ঞতা এবং শেষ দিকে ব্রুনো-মার্তিনেল্লির বোঝাপড়ায় ম্যাচ ঘুরে যায়। ব্রাজিল আবারও দেখাল, নকআউটে শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত তাদের শেষ ধরে নেওয়া যায় না।
শেষ ষোলোয় এখন ব্রাজিল অপেক্ষা করছে নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের ম্যাচের জয়ীর জন্য। তবে জাপান ম্যাচের পর সেলেসাওদের ড্রেসিংরুমে সবচেয়ে আলোচিত মুখ মার্তিনেল্লি। মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল, কিন্তু গোলের আনন্দে সেটিই যেন হয়ে গেল ব্রাজিলের বেঁচে ফেরার প্রতীক।






