Advertisement

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ছয় সপ্তাহে সর্বোচ্চ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ছয় সপ্তাহে সর্বোচ্চ
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দেড় শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। এরই মধ্য দিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তেলের বাজারে এ পরিস্থিতি দেখা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তেলের দাম ১ দশমিক ৯৩ ডলার বা ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলারে পৌঁছায়। এটি গত ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ দাম। এর আগের সেশনে এটি ৩ ডলারের বেশি বেড়ে ৯৪ দশমিক ০৭ ডলারে স্থির হয়েছিল, যা ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ মাত্রার খুব কাছাকাছি ছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডাব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমকি ৪৪ ডলার বা ১ দশমকি ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৮ দশমকি ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বুধবারও এই তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানে টানা ১২তম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণারিতে ইরান প্রতিবার কোনো জাহাজে গুলি চালালে তারা একটি করে ইরানি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। এই ঘটনায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে একটি মাইনযুক্ত পথ অতিক্রম করার চেষ্টার সময় বিস্ফোরণে একটি তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনার পর অন্য দুটি ট্যাংকার ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

আইআরজিসি জানায়, প্রণারিটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অঞ্চলে মার্কিন তৎপরতা অব্যাহত থাকায় এটি ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ রয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো ট্যাংকারকে সেখানে প্রবেশ বা বের হতে দেওয়া হবে না।

গুরুত্বপূর্ণ ওই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন সংঘাতের পাশাপাশি ইরান-সংগঠিত হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণারিতে সৌদি তেল বহনকারী নৌযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে যুদ্ধের একটি নতুন ফ্রন্ট খুলেছে।

হুতিরা জানিয়েছে, তারা দুটি সৌদি তেল ট্যাংকার লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের উল্লেখিত সৌদির পতাকাযুক্ত ‘এনসেলিয়া’ নামের একটি ট্যাংকার লোহিত সাগরে আক্রান্ত হয়েছে।

সৌদি বন্দরে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করার পর হুতিরা প্রায় ১০টি জাহাজকে পিছু হটতে এবং ফিরে যেতে বাধ্য করেছে বলে দাবি করেছে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই খবরের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

লোহিত সাগরে সৌদি আরবের ওপর হুতিদের এই নৌ অবরোধ পারস্য উপসাগরের বাইরেও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোর হুমকি তৈরি করেছে। অন্যদিকে আইআরজিসির মুখপাত্র সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করে জাহাজ কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ রুটটি মাইনযুক্ত।

তবে মার্কিন সরবরাহের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) জানিয়েছে, রিফাইনারি কার্যক্রম শিথিল হওয়া, অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হ্রাস ও আমদানি বৃদ্ধির ফলে গত সপ্তাহে সেখানে অপরিশোধিত তেলের মজুত ২০ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। যদিও রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত ১১ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।