Advertisement

সবে তো শুরু, এখনও অনেক দূর যেতে হবে: অভিজিৎ দীপকে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
সবে তো শুরু, এখনও অনেক দূর যেতে হবে: অভিজিৎ দীপকে
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। ছবি: সংগৃহীত

টানা ৩৭ দিনের লড়াই-সংগ্রাম শেষে দাবি আদায়ের পর আন্দোলনমুক্ত জীবনের প্রথম নতুন সকালে দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘সবে তো শুরু হলো। আমাদের এখনও অনেক দূর যেথে হবে।’

এদিন প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘অনেক দিন পর আজ বেশ শান্তিতে ঘুমিয়েছি। সত্যিই খুব ভালো লাগছে। আজ অন্তত ভাবতে হয়নি সন্ধ্যায় কী হবে, মনে কোনো আতঙ্ক কাজ করছে না।’

তিনি বলেন, ‘গত ৩৭ দিনের দিনগুলো আমাদের কারও জন্যই সহজ ছিল না। আমি ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিটি সমর্থক ও যন্তর-মন্তরে টানা বসে থাকা অদম্য মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আপনাদের এই সাহস ও অবিচল বিশ্বাস ছাড়া এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্ভব হতো না।’

একই সঙ্গে দলের সমালোচকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অভিজিৎ বলেন, ‘যারা আমাদের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, ভেবেছিলেন আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না; তাদেরও ধন্যবাদ। আপনারা গঠনমূলক সমালোচনা করেছিলেন বলেই আমরা নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে প্রতিনিয়ত শক্তিশালী হতে পেরেছি।’

দীর্ঘ পথচলার বার্তা দিয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা আরও বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, সবে মাত্র শুরু, ককরোচ জনতা পার্টিকে অনেক দূর যেতে হবে।’ তার এই মন্তব্য ঘিরে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে যে, সিজেপি কি তাহলে রাজনৈতিক দলে পরিণত হতে যাচ্ছে।

এর আগে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক ও শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের প্রতিবাদে গত এক মাস ধরে উত্তাল ছিল ভারতের রাজপথ। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন পরীক্ষার্থী আত্মহত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তৈরি করেছিল ক্ষোভের বিস্ফোরণ।

সেই ক্ষোভকে একত্রিত করেই ময়দানে নেমেছিল এই তরুণ দল, ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি পান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের পুনে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান অভিজিৎ। ভর্তি হন বিখ্যাত বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে থাকা অবস্থাতেই ‘নিট’ প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে অনলাইনে আন্দোলন গড়ে তোলেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন বাস্তবে রূপ দিতে ও কর্মসূচিতে সরাসরি নেতৃত্ব দিতে বিদেশ থেকেই ভারতে ফিরে আসেন এই তরুণ। এরপর টানা এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শুরু করে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দেন আন্দোলনের তীব্র প্রভাব।

সেই জোরালো প্রতিবাদের মুখেই শনিবার (২৫ জুলাই) পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া