কাজের চাপে দৈনিক মাত্র ৩ ঘণ্টা ঘুমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী

অতিরিক্ত কাজের চাপে দৈনিক মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর সময় পান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার এই অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ও ঘুমহীনতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট দেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এর ফলে জাপানের দীর্ঘদিনের অতি-পরিশ্রমের সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গত সোমবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাকাইচি জানান, গত অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার বসার পর থেকে কম ঘুমানোটাই তার স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতের বেলা ঘরের যাবতীয় কাজ শেষ করার পাশাপাশি ভোররাত পর্যন্ত সরকারি ফাইল ও নথিপত্র পর্যালোচনা করতে হয় তাকে।
এমনকি সোমবারের জাতীয় ছুটির দিনসহ টানা তিন দিনের সাপ্তাহিক ছুটিতেও জমে থাকা হাজার হাজার ইমেইলের জবাব দিতে গিয়ে তাকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে বলে জানান তাকাইচি।
ওই পোস্টে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর এই প্রথম আমি টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পেয়েছি।
প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা সামনে আসার পর জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি ফর দ্য পিপল-এর প্রধান ইউইচিরো তাকি তাকাইচিকে ‘অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী মানুষ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ‘বিশ্রাম নেওয়াটাও কাজের অংশ।’ দেশের নেতা হিসেবে তার উচিত অন্যদের ওপর দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া, যাতে তিনি কেবল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে করণীয় জরুরি কাজগুলোতে মনোনিবেশ করতে পারেন।
আরেক বিরোধী সদস্য তাকির সুরে সুর মিলিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব নেশাগ্রস্ত বা মাতাল অবস্থার মতো প্রভাব ফেলে, যা সরকার পরিচালনায় নেতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
একইভাবে প্রধান বিরোধী দল সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালিয়েন্সের আইনপ্রণেতা তরু কুনিশিগে এক্সে সতর্ক বার্তা দিয়ে লেখেন, দীর্ঘদিনের এই ঘুমহীনতা প্রধানমন্ত্রীর ‘বিবেচনা ক্ষমতা লোপ করতে পারে’ এবং তা ‘দেশের সংকট ব্যবস্থাপনার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’
কাজের ধরন নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা তাকাইচির জন্য প্রথম নয়। ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পরপর তিনি অবিরাম ‘কাজ, কাজ, কাজ, কাজ এবং কাজ’ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তার সেই মন্তব্যটি গত বছরের সর্বাধিক আলোচিত শব্দের শীর্ষে উঠে এলেও তা সাধারণ মানুষের একাংশকে ক্ষুব্ধ করেছিল। কারণ, সরকার যেখানে কাজের অতিরিক্ত সংস্কৃতি কমানোর চেষ্টা করছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য তাকে প্রচার করে বলে তারা মনে করেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে কিছু ব্যবহারকারী তাকাইচির এই পরিশ্রমের প্রশংসা করলেও অধিকাংশ মানুষই কঠোর সমালোচনা করেছেন। কেউ মন্তব্য করেছেন, কঠোর পরিশ্রম দেখালেই জনসমর্থন মেলে না। আবার কেউ পরামর্শ দিয়েছেন, ঘরের কাজ সামলাতে সহকারী নিয়োগ দিন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, গত ১৭ জুলাই রাজপরিবার সংক্রান্ত বিতর্কিত আইন সংশোধনের পর জরিপে সরকারের জনপ্রিয়তা কমছিল। ফলে জনগণের সহানুভূতি পেতে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে তাকাইচি এই পোস্টটি করে থাকতে পারেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সপক্ষে দাঁড়িয়েছেন তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য সচিব মিনোরু কিহারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্সের ধারণাকে অস্বীকার করার কোনো উদ্দেশ্য নেই।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন দলের নীতি গবেষণা প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি মানসিকভাবে শক্ত ও ভালো শারীরিক অবস্থায় আছেন। তা সত্ত্বেও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, কাজের চাপ অসাধারণ, কিন্তু দয়া করে কিছুটা ঘুমান।
সূত্র: জাপান টুডে
.png)







