Advertisement

আজ দায়িত্ব নিচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
আজ দায়িত্ব নিচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম
অ্যান্ডি বার্নহাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম। সোমবার (২০ জুলাই) বাকিংহাম প্যালেসে রাজা চার্লস তৃতীয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যভার গ্রহণ করবেন। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি। এর মাধ্যমে ২০১৬ সালের পর বার্নহাম ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) মধ্য-বামপন্থী ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। দলের নতুন নেতা হওয়ার দৌড়ে তিনি ছিলেন একমাত্র প্রার্থী। হাউজ অব কমন্সের ৪০৩ জন লেবার সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৭৯ জনই তাকে সমর্থন জানান।

সোমবার সকালে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এর পর বার্নহাম রাজার সঙ্গে দেখা করবেন এবং রাজা তাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। ‘কিসিং হ্যান্ডস’ নামক ঐতিহ্যবাহী আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে এই ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।

যুক্তরাজ্যের সংসদীয় গণতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতাসীন দল তাদের নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করতে পারে। দেশটিতে ২০২৯ সালের আগে নতুন কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম চাইলে এর আগে নির্বাচন ডাকতে পারেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে প্রথাগত সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেবেন বার্নহাম। তার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম বক্তৃতায় দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেবেন। রাজনীতিকে ‘কম বিষাক্ত’ করা এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করারও অঙ্গীকার করেছেন বার্নহাম।

বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সবার নজর থাকবে তার নতুন ক্যাবিনেটের দিকে। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে।

এদিকে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার পার্লামেন্টে তার শেষ প্রশ্নোত্তর অধিবেশনে সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি কর্মজীবী মানুষের সুরক্ষা, শিশু দারিদ্র্য হ্রাস এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি দেশকে আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় রেখে যাচ্ছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা।