গাজা কমিটির প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে ইসরায়েলকে চাপের আহ্বান হামাসের

ফিলিস্তিনে গাজা উপত্যকায় নতুন প্রশাসনিক কমিটির প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এই অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটিকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
দলটির মুখপাত্র হাজেম কাসেম মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি জানান। তিনি আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী এবং জামিনদার রাষ্ট্রগুলোর প্রতি এই বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার হামাস তাদের বিদ্যমান ‘সরকারি জরুরি কমিটি’ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। একই সঙ্গে তারা গাজা উপত্যকার সম্পূর্ণ শাসনভার ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজার (এনসিএজি) কাছে হস্তান্তরের কথা জানায়।
এই সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে হামাস মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, আমরা সব ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দল ও উপদলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা সবাই আমাদের এই সিদ্ধান্তকে সর্বসম্মতভাবে স্বাগত জানিয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়াও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষের সঙ্গেও আমাদের ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। তারা প্রত্যেকে হামাসের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং একে সঠিক সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।
কাসেম স্পষ্ট করে বলেন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। এখন বল মূলত মধ্যস্থতাকারী এবং জামিনদার রাষ্ট্রগুলোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। তাদের উচিত দখলদার ইসরায়েল সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে এই জাতীয় কমিটিকে দ্রুত গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।
গাজার শাসনভার নিতে যাওয়া এনসিএজি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এটি মূলত ফিলিস্তিনের বিশিষ্ট ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক স্বাধীন প্রশাসনিক সংস্থা। এই জাতীয় কমিটি গাজা ভূখণ্ডের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বেসামরিক ও প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য দায়বদ্ধ থাকবে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এই কমিটির সদস্যরা মিশরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করে সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা ও বাধার কারণে কমিটিটি এখনও গাজায় প্রবেশ করতে এবং মাঠপর্যায়ে সরাসরি দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেনি।
সোমবার (৬ জুলাই) হামাসের সীদ্ধান্ত ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়ন্ত্রিত গাজাকেন্দ্রিক গঠিত আন্তর্জাতিক ‘বোর্ড অব পিস’ (শান্তি বোর্ড)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বোর্ডটি জানায়, তারা হামাসের কেবল মুখের কথায় বিশ্বাসী নয়। বরং গাজার মাটিতে তারা হামাসের বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায়।
গাজা শান্তি বোর্ড জানায়, গাজার জরুরি কমিটি বিলুপ্ত করার বিষয়ে হামাসের ঘোষণা আমাদের নজরে এসেছে। তবে চূড়ান্তভাবে আমাদের মূল্যায়ন কেবল কোনো মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে হবে না। গাজার সাধারণ মানুষের জরুরি ও মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে মাঠপর্যায়ে কী ধরনের বাস্তব পদক্ষেপ বা কাজ নেওয়া হচ্ছে, আমরা সেটিই পর্যবেক্ষণ করব।
বিতর্কিত এই শান্তি বোর্ডে ফিলিস্তিনের কোনো প্রতিনিধি বা সদস্য রাখা হয়নি।
হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রশাসনিক ও সরকারি দায়িত্ব রূপান্তরের প্রক্রিয়াটিকে সহজ করতে এই কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এনসিএজির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সম্পূর্ণ সুগম হলো।






